আমাদের আবাস ফ্রান্সের তুলুজে। এবার গরমের ছুটিতে ইচ্ছা হলো কয়েকটা দিন বার্সেলোনায় কাটাব। এর দুটো কারণ, প্রথমত সাগ্রাডা ফামিলিয়াকে নতুন রূপে দেখার ইচ্ছা। দ্বিতীয়ত লন্ডন থেকে স্ত্রী-কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসবে আমার ছোট ভাই। প্রায় তিন দশক পরে দেখা হবে—রক্তের টান। মনের বাসনা স্ত্রীকে জানাতেই তিনি উৎফুল্ল হলেন। ভ্রমণ থেকে শুরু করে আমাদের দুজনের থাকার ব্যবস্থা—সবকিছুই অনলাইনে করে ফেললেন।
জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বার্সেলোনায় পর্যটকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এ সময়টাতে শহর থেকে একটু দূরে তিন তারকা হোটেল হ্যাম্পটন বাই হিলটন আমাদের দুজনের রাজকীয় প্রাতরাশসহ প্রতি রাতের জন্য ১৪০ ইউরো গুনতে হয়েছে। ছোট ভাই, তার স্ত্রী এবং তাদের কন্যা নগরীর অদূরে পাঁচ রাত থাকার জন্য রান্নার সুবিধাসহ বেশ চমৎকার একটি ফ্ল্যাট নিয়েছে। পুরো পাঁচ রাতের জন্য ভাড়া পড়েছে ৭০০ ইউরো।
ট্রাম ও বাসের সুব্যবস্থায় নগরের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় খুব সহজে চলে যাওয়া যায়। ট্যাক্সির ওপরও বেশ আস্থা রাখা যায়। তবে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে একটু সতর্ক হওয়াই ভালো; তা না হলে খাবারের মান ও দামের কারণে খানিকটা হতাশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুই হাজার বছরের পুরোনো নগরী বার্সেলোনায় দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। এগুলোর মধ্যে থেকে প্রধানত সাগ্রাডা ফামিলিয়া, কাসা বাত্লো, কাসা মিলা, পার্ক গুয়েল, গথিক কোয়ার্টার, লা রাম্বলা, মন্তজুইক পাহাড়-দুর্গ, জাদুঘর ও মনোরম দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত ক্যাম্প নউ-এফসি বার্সেলোনার বিখ্যাত স্টেডিয়াম, পিকাসো মিউজিয়াম আর সমুদ্রের তীর ঘেঁষে এগারো হাজার জলজ প্রাণী বুকে নিয়ে আছে এক বিশাল অ্যাকুয়ারিয়াম।
লেখার শুরুতে এই অতি নান্দনিক এবং অনন্য স্থাপনার কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। নগরীর আইকন এই ক্যাথেড্রাল। খেয়ালি স্থপতি আন্তোনি গাউদি প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এর নকশা করেন এবং ১৮৮২ সালে এই স্থাপনার কাজ শুরু করেন, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি। তিনি সবকিছু ভুলে তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোর সবটুকু উৎসর্গ করেছিলেন এই বিস্ময়কর স্থাপনার কাজে।
বার্সেলোনাকে গাউদির নগরী বললে মোটেই বাহুল্য হবে না। এই নগরীতে তাঁর অনুপম সৃষ্টিকর্ম দৃষ্টি কাড়বে। নগরের প্রাণকেন্দ্র প্লাসা দ্য কাতালোনিয়ার বিশাল চত্বরে পর্যটকেরা ভিড় করেন। এখানে এলে এই জনপদের ধুকপুকানি অনুভব করা যায়। শৌখিন শিল্পীরা নেচে-য়ে মাতিয়ে রাখেন দর্শনার্থীদের। শহুরে পাখিরাও মানুষের সঙ্গে ভিড় জমায় এখানে। কাছেই লা রাম্বলার ছায়াঘেরা প্রশস্ত সড়ক ধরে হেঁটে গেলে চোখে পড়বে নানা দেশের পথশিল্পীদের। এখানকার প্রাণোচ্ছলতার ছোঁয়া মনকে আনন্দে ভাসিয়ে দেবে, মনে হবে আপনি আনন্দপুরীতে ভ্রমণে এসেছেন।
পার্ক গুয়েলে পা রাখলে অনুভব করা যায়, মানুষের কল্পনাশক্তির ব্যাপ্তি কতটা হতে পারে। মোজাইকের সালামান্দার, বিচিত্র প্রাণী, বাঁকানো বেঞ্চ—গাউদির এসব কালজয়ী কারুকার্য দেখে মুগ্ধ হতেই হয়। গতানুগতিকতার গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর অনন্য স্থাপত্যশৈলী তাঁকে অন্য সব স্থপতির থেকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।
বিকেলে ভূমধ্যসাগরের তীরের হালকা ঠান্ডা বাতাস ক্লান্তি দূর করে দেয়। সমুদ্রসৈকতে গাংচিলেরা বেশ নির্ভয়, পায়ের কাছে ঘুরে বেড়ায়। ইচ্ছা হলে আকাশে পাখা মেলে, কিংবা নিজেকে পানিতে ভাসিয়ে দেয়।
৩৩ ইউরো দিয়ে একবার টিকিট কিনলে সিটি ট্যুর বাসে আরাম করে বসে পুরো শহর ঘুরে ঘুরে দর্শনীয় স্থানগুলো দেখা যায়। ইচ্ছা হলে নেমে যাওয়া যায় এবং ঘুরেফিরে আবার বাসে চড়া যায়। পুরো ২৪ ঘণ্টা এই টিকিট কাজে লাগানো যায়। ঘরে ফেরার দিন মনে হলো, অনেক কিছু অদেখা রয়ে গেল। মনকে প্রবোধ দিই, একদিন আবারও ফিরে আসব গাউদির নগরে, তাঁর সৃষ্টিছাড়া সৃষ্টি দেখতে।
কখনো ভেবে দেখেছেন, আমাদের শরীরের ভেতরে ঘটে ক্ষুধা, ভয়, আনন্দ, হাসি বা কান্নার মতো অনুভূতিগুলো আমরা কীভাবে টের পাই? শরীরের ভেতরের এই সংকেতগুলো আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা হয় ইন্টারোসেপশন বা অন্তঃসংবেদন। গবেষকেরা একেই বলছেন মানুষের অতীব গুরুত্বপূর্ণ ষষ্ঠ…
নিয়মিত স্কিন স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস করলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য বা বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এটি ত্বকের তেল গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্রণের সমস্যা কমিয়ে আনে। বড় বিষয়, এটি কোনো কৃত্রিম উপায় নয়; বরং প্রাকৃতিক পুষ্টির মাধ্যমে ত্বকের আসল টেক্সচার ও গ্লো ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম…
অনেকে সকালের তাড়াহুড়োয় বিছানা না গুছিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ফলে দিন শেষে যখন বাড়ি ফেরেন, তখন অগোছালো বিছানা দেখলে ক্লান্তি আরও বেশি ভর করে শরীরে। দিনের শুরুতে মাত্র দুই মিনিট সময় নিয়ে বিছানাটি গুছিয়ে ফেলুন। চাদর টেনে সোজা করা, কাঁথাগুলো ভাঁজ করা আর বালিশগুলো জায়গায় রাখা—এই সামান্য কাজটুকুই আপনার পুরো…
দৈনিক টার্গেট 

























