ঘুমিয়েও ক্লান্ত? ‘স্লিপ ফ্যাটিগ’-এর কারণ ও করণীয়

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:৪৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯১ বার পঠিত হয়েছে

পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে ওঠার পর অনেকের ক্লান্ত লাগে

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন অবসন্ন লাগে, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায় বা মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়-তাহলে বিষয়টি অবহেলা করার মতো নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হতে পারে ‘স্লিপ ফ্যাটিগ’ বা ঘুমজনিত দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির লক্ষণ, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাভাবিকভাবে ভালো ঘুম মানুষের শরীর ও মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সতেজ বোধ করেন না। এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে, যা চিহ্নিত করা জরুরি।

ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হওয়া ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ এমন একটি কারণ, যা অনেক সময় অজান্তেই ঘুমের মান নষ্ট করে। এতে ঘুমের ভেতর বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্ক ক্ষণিকের জন্য জেগে ওঠে। ফলে দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটালেও শরীর বিশ্রাম পায় না।

একইভাবে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়াও ক্লান্তির বড় উৎস। অনেকেই মনে করেন, ঘুম না আসাই অনিদ্রা-কিন্তু বাস্তবে ঘুম বারবার ভেঙে যাওয়া বা খুব হালকা ঘুমও এর অন্তর্ভুক্ত। এতে ঘুমের সময় যথেষ্ট হলেও গুণগত মান কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিপ্রেশন বা উদ্বেগের কারণে মস্তিষ্ক সবসময় চাপের মধ্যে থাকে, যা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। কেউ অতিরিক্ত ঘুমালেও ক্লান্ত থাকে, আবার কেউ ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেন না।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কিছু শারীরিক অসুস্থতা-যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যা-শরীরের শক্তি ক্ষয় করে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। রাতে বারবার জেগে ওঠা বা অস্বস্তি থাকলে পরদিন ক্লান্তি বাড়ে।

অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা হাইপারসমনিয়াও একটি কারণ হতে পারে, যেখানে মানুষ বেশি সময় ঘুমালেও স্বাভাবিক সজীবতা ফিরে পায় না। এটি কখনো নিজস্ব সমস্যা, আবার কখনো অন্য রোগের প্রভাবেও হতে পারে।

সবশেষে, দৈনন্দিন জীবনযাপনও বড় প্রভাব ফেলে। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, অনিয়মিত রুটিন, ভারী খাবার বা কম শারীরিক পরিশ্রম-এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে ঘুমের মান কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঘুমিয়েও ক্লান্ত? ‘স্লিপ ফ্যাটিগ’-এর কারণ ও করণীয়

প্রকাশ: ১২:৪৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন অবসন্ন লাগে, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায় বা মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়-তাহলে বিষয়টি অবহেলা করার মতো নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হতে পারে ‘স্লিপ ফ্যাটিগ’ বা ঘুমজনিত দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির লক্ষণ, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাভাবিকভাবে ভালো ঘুম মানুষের শরীর ও মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু অনেকেই আছেন, যারা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সতেজ বোধ করেন না। এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে, যা চিহ্নিত করা জরুরি।

ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হওয়া ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ এমন একটি কারণ, যা অনেক সময় অজান্তেই ঘুমের মান নষ্ট করে। এতে ঘুমের ভেতর বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্ক ক্ষণিকের জন্য জেগে ওঠে। ফলে দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটালেও শরীর বিশ্রাম পায় না।

একইভাবে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়াও ক্লান্তির বড় উৎস। অনেকেই মনে করেন, ঘুম না আসাই অনিদ্রা-কিন্তু বাস্তবে ঘুম বারবার ভেঙে যাওয়া বা খুব হালকা ঘুমও এর অন্তর্ভুক্ত। এতে ঘুমের সময় যথেষ্ট হলেও গুণগত মান কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিপ্রেশন বা উদ্বেগের কারণে মস্তিষ্ক সবসময় চাপের মধ্যে থাকে, যা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। কেউ অতিরিক্ত ঘুমালেও ক্লান্ত থাকে, আবার কেউ ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেন না।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কিছু শারীরিক অসুস্থতা-যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যা-শরীরের শক্তি ক্ষয় করে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। রাতে বারবার জেগে ওঠা বা অস্বস্তি থাকলে পরদিন ক্লান্তি বাড়ে।

অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা হাইপারসমনিয়াও একটি কারণ হতে পারে, যেখানে মানুষ বেশি সময় ঘুমালেও স্বাভাবিক সজীবতা ফিরে পায় না। এটি কখনো নিজস্ব সমস্যা, আবার কখনো অন্য রোগের প্রভাবেও হতে পারে।

সবশেষে, দৈনন্দিন জীবনযাপনও বড় প্রভাব ফেলে। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, অনিয়মিত রুটিন, ভারী খাবার বা কম শারীরিক পরিশ্রম-এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে ঘুমের মান কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।