ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর উপলক্ষে মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক আন্দোলন ও দেশের নদী রক্ষায় তাঁর অবদানের স্মৃতিচারণ করেছে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)

ফারাক্কা লংমার্চ স্মরণে ভাসানীর সংগ্রাম

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্ব রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং দেশের স্বার্থে তাঁর আপসহীন অবস্থানের স্মৃতিচারণ করেছে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)। শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক স্মারক বিবৃতিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৬ সালের এই দিনে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদী ও কৃষি রক্ষার দাবিতে মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

দলের সভাপতি স্বপন কুমার সাহা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সে সময় মওলানা ভাসানী বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তৎকালীন সামরিক প্রশাসক জিয়াউর রহমান তাঁকে দেখতে গেলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে মওলানা ভাসানী জিয়াউর রহমানকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে মওলানা ভাসানী তাঁকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির আদর্শ ও প্রতীক ধারণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মওলানা ভাসানী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এ কারণেই অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি লংমার্চ কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেননি।

তৎকালীন পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জিয়াউর রহমান মওলানা ভাসানীকে শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে লংমার্চ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু মওলানা ভাসানী স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্নে এটিই হতে পারে তাঁর জীবনের শেষ বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। পরে ফারাক্কা লংমার্চ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে সহযোগিতা করা হয়।

ফারাক্কা লংমার্চের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৯৭৬ সালের ১২ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে একটি বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া জাসদসহ অধিকাংশ বাম রাজনৈতিক দল এ জনসভায় উপস্থিত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। জনসভায় মওলানা ভাসানী দেশের নদী রক্ষাকে জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন এবং জনগণকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের আহ্বান জানান।

১৬ মে রাজশাহী থেকে কানসাট অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ শুরু হয়। হাজার হাজার মানুষ এতে অংশ নেয়। মওলানা ভাসানী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ইন্দিরা গান্ধীর পিতা জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে একই আন্দোলনের পথে সংগ্রাম করেছেন। সেই সম্পর্ক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ভারত সরকারের উচিত ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ফারাক্কা লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল দেশের নদী, কৃষি ও মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং ফারাক্কা ইস্যু জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী) মনে করে, বর্তমান সময়েও নদী ও পানির ন্যায্য অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলটি মনে করে, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন ছিল দেশ, মাটি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তাঁর ফারাক্কা লংমার্চ সেই সংগ্রামেরই একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

বিবৃতির শেষাংশে মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, দেশের স্বার্থে তাঁর আত্মত্যাগ, সাহসী নেতৃত্ব ও দূরদর্শী রাজনৈতিক অবস্থান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর উপলক্ষে মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক আন্দোলন ও দেশের নদী রক্ষায় তাঁর অবদানের স্মৃতিচারণ করেছে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)

ফারাক্কা লংমার্চ স্মরণে ভাসানীর সংগ্রাম

প্রকাশ: ০৮:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্ব রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং দেশের স্বার্থে তাঁর আপসহীন অবস্থানের স্মৃতিচারণ করেছে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)। শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক স্মারক বিবৃতিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৬ সালের এই দিনে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদী ও কৃষি রক্ষার দাবিতে মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

দলের সভাপতি স্বপন কুমার সাহা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সে সময় মওলানা ভাসানী বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তৎকালীন সামরিক প্রশাসক জিয়াউর রহমান তাঁকে দেখতে গেলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ফারাক্কা ইস্যু নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে মওলানা ভাসানী জিয়াউর রহমানকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে মওলানা ভাসানী তাঁকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির আদর্শ ও প্রতীক ধারণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মওলানা ভাসানী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এ কারণেই অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি লংমার্চ কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেননি।

তৎকালীন পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জিয়াউর রহমান মওলানা ভাসানীকে শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে লংমার্চ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু মওলানা ভাসানী স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্নে এটিই হতে পারে তাঁর জীবনের শেষ বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। পরে ফারাক্কা লংমার্চ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে সহযোগিতা করা হয়।

ফারাক্কা লংমার্চের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৯৭৬ সালের ১২ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে একটি বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া জাসদসহ অধিকাংশ বাম রাজনৈতিক দল এ জনসভায় উপস্থিত ছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। জনসভায় মওলানা ভাসানী দেশের নদী রক্ষাকে জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন এবং জনগণকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের আহ্বান জানান।

১৬ মে রাজশাহী থেকে কানসাট অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ শুরু হয়। হাজার হাজার মানুষ এতে অংশ নেয়। মওলানা ভাসানী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ইন্দিরা গান্ধীর পিতা জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে একই আন্দোলনের পথে সংগ্রাম করেছেন। সেই সম্পর্ক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ভারত সরকারের উচিত ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ফারাক্কা লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল দেশের নদী, কৃষি ও মানুষের জীবন রক্ষার আন্দোলন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং ফারাক্কা ইস্যু জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী) মনে করে, বর্তমান সময়েও নদী ও পানির ন্যায্য অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলটি মনে করে, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন ছিল দেশ, মাটি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তাঁর ফারাক্কা লংমার্চ সেই সংগ্রামেরই একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

বিবৃতির শেষাংশে মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, দেশের স্বার্থে তাঁর আত্মত্যাগ, সাহসী নেতৃত্ব ও দূরদর্শী রাজনৈতিক অবস্থান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।