খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আলোচিত হাসান হত্যা মামলার এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে আদালত এ আদেশ দেন।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি আজহারুল ইসলামকে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল, যিনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন, তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চাঁদখালী বাজার এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে হাসান সরদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একদল ব্যক্তি তাকে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল মালেক সরদার বাদী হয়ে গত ৯ জুন পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শুনানি চলাকালে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। আদালত চত্বরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় উপস্থিত জনতাকে।
এ সময় নিহতের পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন উপস্থিতি আদালত এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি করে। নিহতের মা, স্ত্রী, দাদি ও বোন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারি উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে। স্বজনরা দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে যেন আইনের বাইরে রাখা না হয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল মালেক সরদার বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি মিন্টু সরদারসহ কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 

























