রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পৃথক দুটি ঘটনায় শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই ক্যাম্পাসেই সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হামলার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে দায়ী করে পৃথক বক্তব্য দিয়েছে।
ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ
দুপুরের দিকে ঢাকা কলেজের একটি গ্যালারিতে শিক্ষার্থী সংগঠনের একটি পূর্বনির্ধারিত আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে ব্যানার ও অন্যান্য প্রস্তুতির সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শিবির-সংশ্লিষ্ট নেতারা দাবি করেছেন, তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিকালে প্রতিপক্ষের একদল কর্মী এসে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংঘর্ষে তাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের কর্মীদের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই বহিরাগত কয়েকজন শিবির-সমর্থক ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করেন এবং ছাত্রদলের এক কর্মীর ওপর হামলা চালান। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্র হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তাদের দাবি, এ ঘটনায় ছাত্রদলের অন্তত সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও উত্তেজনা
একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও পৃথক একটি ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ কয়েকটি দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের সময় সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে।
জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা একটি অনুষ্ঠানে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। পরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ভিপি, জিএস, এজিএসসহ বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনটির এক নেতা দাবি করেন, জকসু প্রতিনিধি ও শিবির-সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায় ছাত্রদলের ওপর চাপানোর উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা
দুই ক্যাম্পাসের ঘটনাতেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা, উসকানি ও সংঘর্ষের অভিযোগ তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের এসব ঘটনার পর ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়—উভয় ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং সব পক্ষের সংযম প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দৈনিক টার্গেট 




















