সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া ছাকিপাড়া এলাকায় নেশা-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে দুধ বিক্রেতা মহিন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা; নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলায় কিশোর ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

নেশা নিয়ে বিরোধে বাবার মৃত্যু

  • আব্দুল খালেক
  • প্রকাশ: ০৯:৫০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩১ বার পঠিত হয়েছে

ঢাকার সাভারে নেশা-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এক দুধ বিক্রেতার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া ছাকিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মহিন মিয়া (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দুধ বিক্রির কাজ করতেন। ভোর রাতে পরিবারের মধ্যে নেশা-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সংঘর্ষের সময় মহিন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন মর্মান্তিক পারিবারিক ঘটনা আগে এলাকায় খুব কমই ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু সে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিষয়টি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে। তদন্তের স্বার্থে তার বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে একই দিনে সাভারের অন্য একটি এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটিও ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনাটিরও পৃথকভাবে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সাভার মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, রাজফুলবাড়িয়ার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত মহিন মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি একই দিনে উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানেও পুলিশ কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া ছাকিপাড়া এলাকায় নেশা-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে দুধ বিক্রেতা মহিন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা; নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলায় কিশোর ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

নেশা নিয়ে বিরোধে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯:৫০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সাভারে নেশা-সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এক দুধ বিক্রেতার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়া ছাকিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মহিন মিয়া (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দুধ বিক্রির কাজ করতেন। ভোর রাতে পরিবারের মধ্যে নেশা-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সংঘর্ষের সময় মহিন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন মর্মান্তিক পারিবারিক ঘটনা আগে এলাকায় খুব কমই ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু সে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিষয়টি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে। তদন্তের স্বার্থে তার বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে একই দিনে সাভারের অন্য একটি এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটিও ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনাটিরও পৃথকভাবে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সাভার মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, রাজফুলবাড়িয়ার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত মহিন মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি একই দিনে উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানেও পুলিশ কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।