নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর রায়েরবাগ ইসলামিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক রোগীর স্বজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, চিকিৎসকের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়া এবং রোগীদের অপেক্ষার জায়গার সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এক রোগীর স্বজন।
অভিযোগকারী জানান, নির্ধারিত সিরিয়াল ছিল ৩২ নম্বর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চিকিৎসকের রোগী দেখার সময় বিকেল ৫টা নির্ধারণ করা হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক প্রায় রাত সাড়ে ৭টার দিকে চেম্বারে আসেন। এতে বিকেল ৪টা থেকে অপেক্ষমাণ রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চিকিৎসক চেম্বারে আসার পরপরই কয়েকজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে বিভিন্ন ওষুধের প্রচারসামগ্রী ও অন্যান্য উপকরণ ছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। এতে রোগী দেখার কার্যক্রম আরও বিলম্বিত হয় এবং অপেক্ষমাণ রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে।
বিশেষ করে নারী রোগীদের চিকিৎসার সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই রোগীর স্বজন। তার দাবি, গাইনোকলজি বিভাগের রোগী চিকিৎসকের কক্ষে থাকা অবস্থাতেও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা অনুমতি ছাড়াই কক্ষে প্রবেশ করছিলেন। এতে রোগীর গোপনীয়তা ও চিকিৎসা পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় একাধিক চিকিৎসকের চেম্বার থাকলেও রোগীদের বসার জায়গা তুলনামূলকভাবে অপ্রতুল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় আটজন চিকিৎসকের চেম্বার রয়েছে, কিন্তু অপেক্ষমাণ রোগীদের জন্য সীমিত সংখ্যক আসন থাকায় অনেক রোগীকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
রোগীর স্বজনের মতে, বেসরকারি হাসপাতালে মানুষ সাধারণত দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশায় যান। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষা, বসার জায়গার সংকট এবং রোগী দেখার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রোগীদের অপেক্ষার সময় কমানো, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা করা এবং বিশেষ করে নারী রোগীদের চিকিৎসার সময় গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি।
আমিনুল হক ভূঁইয়া 





















