বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ, মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে অবচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন

খুলনা মেডিকেলে কাতরাচ্ছেন কয়রার সাবেক ইউপি সদস্য মাহফুজা

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত সাবেক ইউপি সদস্য ও দুই সন্তানের জননী মাহফুজা খাতুন তিন দিন ধরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, আঘাতের কারণে মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ ও নার্ভে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট বিকেলে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন মাহফুজা খাতুন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১ সেপ্টেম্বর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা তাকে খুলনায় নিয়ে ভর্তি করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাহফুজার স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার দিন প্রতিবেশী হালিম গাজী ও তার দুই ছেলে শাহিন গাজী এবং তুহিন গাজী তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে মাহফুজার ওপর হামলা চালান। প্রথমে রান্নাঘরে এবং পরে বাড়ির সামনের অংশে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর আঘাতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে দাবি পরিবারের।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, মাহফুজা অচেতন হয়ে পড়ার পর তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ বাড়ির বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে মাহফুজার চিকিৎসা নিয়ে স্বজনরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে প্রবেশ করে হামলার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহফুজা খাতুনের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্যরা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নজরুল বর্ষে কবিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য, বসেছিল লেটো গানের আসর

বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ, মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে অবচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন

খুলনা মেডিকেলে কাতরাচ্ছেন কয়রার সাবেক ইউপি সদস্য মাহফুজা

প্রকাশ: ১১:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত সাবেক ইউপি সদস্য ও দুই সন্তানের জননী মাহফুজা খাতুন তিন দিন ধরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, আঘাতের কারণে মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ ও নার্ভে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট বিকেলে নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন মাহফুজা খাতুন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১ সেপ্টেম্বর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা তাকে খুলনায় নিয়ে ভর্তি করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাহফুজার স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার দিন প্রতিবেশী হালিম গাজী ও তার দুই ছেলে শাহিন গাজী এবং তুহিন গাজী তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে মাহফুজার ওপর হামলা চালান। প্রথমে রান্নাঘরে এবং পরে বাড়ির সামনের অংশে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে গুরুতর আঘাতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে দাবি পরিবারের।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, মাহফুজা অচেতন হয়ে পড়ার পর তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ বাড়ির বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে মাহফুজার চিকিৎসা নিয়ে স্বজনরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে প্রবেশ করে হামলার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহফুজা খাতুনের দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের সদস্যরা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।