বিরে তুওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক কূপ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:১২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮৪ বার পঠিত হয়েছে

মক্কার সুপরিচিত এলাকা জারওয়ালে অবস্থিত এই বিশেষ স্থানটিতে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কূপ—‘বিরে তুওয়া’ বা তুওয়া কূপ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মক্কায় প্রবেশের আগে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এই কূপের কাছে অবস্থান করতেন এবং এর পানি দিয়ে গোসল সম্পন্ন করতেন। মক্কা বিজয় এবং বিদায় হজের সময়ও তিনি এই আমল লালন করেছিলেন। সম্প্রতি প্রাচীন এই স্মৃতিচিহ্নটিকে সুরক্ষার জন্য কূপটির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী (সা.) এই কূপের পাশেই রাতযাপন করেন এবং পরদিন সকালে পবিত্র মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। মূল বিষয়টি হলো—মক্কায় প্রবেশের পূর্বে এখানে অবস্থান করা ছিল নবীজি (সা.)-এর একটি নিয়মিত অভ্যাস। বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত:

পবিত্র মসজিদুল হারাম বা কাবা শরিফের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কের পাশেই কূপটি অবস্থিত। মক্কার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য ঐতিহাসিক পাহাড় এবং তায়েফের জিয়ারাহ স্থানগুলোর মতো এটিও জিয়ারাহকারীদের জন্য মক্কার অন্যতম আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ঐতিহ্যবাহী এই কূপটি দেখতে এখানে ভিড় জমান।

প্রতি বছর জিয়ারতকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এলাকাটিতে অতিরিক্ত ভিড় থাকার কারণে কূপ থেকে সরাসরি পানি তোলা বা গোসল করার অনুমতি আছে কি না, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তবে আপনি যদি স্থানটি পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেন, তবে সেখানে গিয়ে তুওয়া কূপটি দেখতে পারেন এবং চোখের সামনে কল্পনা করে নিতে পারেন—আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পবিত্র সময়ে এই স্থানটি কেমন ছিল!

পবিত্র মক্কায় প্রবেশের আগে প্রিয় নবীজি (সা.) যেহেতু এই কূপের পানি ব্যবহার করেছিলেন, তাই হজ বা ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ‘বিরে তুওয়া’ দর্শন এক চমৎকার ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুভূতি এনে দেয়।

সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমের পাশাপাশি আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইমাম মালিকের বর্ণনায় মহানবী (সা.)-এর জি-তুওয়ায় অবস্থান করা, গোসল করা এবং অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করার বহু হাদিস প্রমাণিত রয়েছে।

মাওলানা এহসানুল হক দীর্ঘদিন মেহনতের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি তিনি প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দেন।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

ক্ষমা ইসলাম ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈতিক গুণ ও সুমহান সৌন্দর্যের প্রতীক। ‘ক্ষমা’ শব্দের মূল আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘আফওয়ান’, যার অর্থ মাফ করা, অপরাধের শাস্তি এড়িয়ে মার্জনা করা কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা সত্ত্বেও দোষত্রুটি মার্জনা করা।

জনপ্রিয় টার্গেট

ঝড়-বৃষ্টিতে আতঙ্ক, পলিথিনের ছাউনিতে খুদেজার জীবন

বিরে তুওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্মৃতিধন্য ঐতিহাসিক কূপ

প্রকাশ: ০৫:১২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কার সুপরিচিত এলাকা জারওয়ালে অবস্থিত এই বিশেষ স্থানটিতে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কূপ—‘বিরে তুওয়া’ বা তুওয়া কূপ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মক্কায় প্রবেশের আগে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এই কূপের কাছে অবস্থান করতেন এবং এর পানি দিয়ে গোসল সম্পন্ন করতেন। মক্কা বিজয় এবং বিদায় হজের সময়ও তিনি এই আমল লালন করেছিলেন। সম্প্রতি প্রাচীন এই স্মৃতিচিহ্নটিকে সুরক্ষার জন্য কূপটির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী (সা.) এই কূপের পাশেই রাতযাপন করেন এবং পরদিন সকালে পবিত্র মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। মূল বিষয়টি হলো—মক্কায় প্রবেশের পূর্বে এখানে অবস্থান করা ছিল নবীজি (সা.)-এর একটি নিয়মিত অভ্যাস। বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত:

পবিত্র মসজিদুল হারাম বা কাবা শরিফের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কের পাশেই কূপটি অবস্থিত। মক্কার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য ঐতিহাসিক পাহাড় এবং তায়েফের জিয়ারাহ স্থানগুলোর মতো এটিও জিয়ারাহকারীদের জন্য মক্কার অন্যতম আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ঐতিহ্যবাহী এই কূপটি দেখতে এখানে ভিড় জমান।

প্রতি বছর জিয়ারতকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এলাকাটিতে অতিরিক্ত ভিড় থাকার কারণে কূপ থেকে সরাসরি পানি তোলা বা গোসল করার অনুমতি আছে কি না, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তবে আপনি যদি স্থানটি পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেন, তবে সেখানে গিয়ে তুওয়া কূপটি দেখতে পারেন এবং চোখের সামনে কল্পনা করে নিতে পারেন—আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পবিত্র সময়ে এই স্থানটি কেমন ছিল!

পবিত্র মক্কায় প্রবেশের আগে প্রিয় নবীজি (সা.) যেহেতু এই কূপের পানি ব্যবহার করেছিলেন, তাই হজ বা ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ‘বিরে তুওয়া’ দর্শন এক চমৎকার ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুভূতি এনে দেয়।

সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমের পাশাপাশি আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইমাম মালিকের বর্ণনায় মহানবী (সা.)-এর জি-তুওয়ায় অবস্থান করা, গোসল করা এবং অতঃপর মক্কায় প্রবেশ করার বহু হাদিস প্রমাণিত রয়েছে।

মাওলানা এহসানুল হক দীর্ঘদিন মেহনতের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ইলম শিক্ষা, শিক্ষকতা ও দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি তিনি প্রবীণ মুরব্বিদের সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দেন।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।

ক্ষমা ইসলাম ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈতিক গুণ ও সুমহান সৌন্দর্যের প্রতীক। ‘ক্ষমা’ শব্দের মূল আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘আফওয়ান’, যার অর্থ মাফ করা, অপরাধের শাস্তি এড়িয়ে মার্জনা করা কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা সত্ত্বেও দোষত্রুটি মার্জনা করা।