রাজধানীর শ্যামপুরে র‍্যাব-১০ এর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ এক সন্ত্রাসী গ্রেফতার

শ্যামপুরে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার ১

রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। বৃহস্পতিবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

র‌্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে র‌্যাব-১০ এর সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিকভাবে অবৈধ মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য পেলেও পরে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরিফুর রহমান নয়ন (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি শ্যামপুর এলাকার করিমুল্লারবাগের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। শ্যামপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে, তিনি শুধু অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছে। সন্ত্রাস, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাহিনীটি।

র‌্যাব কর্মকর্তারা আরও জানান, সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা এবং তথ্য প্রদান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোনো এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ একটি সঠিক তথ্য অনেক সময় বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তোলে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা সহজেই ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও তারা মনে করেন।

র‌্যাব-১০ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয়েছে, অপরাধ দমনে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রাজধানীর শ্যামপুরে র‍্যাব-১০ এর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ এক সন্ত্রাসী গ্রেফতার

শ্যামপুরে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার ১

প্রকাশ: ১২:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। বৃহস্পতিবার রাতে পরিচালিত এ অভিযানে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

র‌্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে র‌্যাব-১০ এর সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিকভাবে অবৈধ মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য পেলেও পরে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরিফুর রহমান নয়ন (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি শ্যামপুর এলাকার করিমুল্লারবাগের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। শ্যামপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে, তিনি শুধু অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছে। সন্ত্রাস, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাহিনীটি।

র‌্যাব কর্মকর্তারা আরও জানান, সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা এবং তথ্য প্রদান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোনো এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ একটি সঠিক তথ্য অনেক সময় বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তোলে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা সহজেই ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও তারা মনে করেন।

র‌্যাব-১০ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয়েছে, অপরাধ দমনে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।