খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর কয়রা খালপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইটসোলিং সড়ক স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড শাখার নেতাকর্মীরা। নিজেদের অর্থ ও শ্রম দিয়ে সড়কের ভাঙা অংশে নতুন ইট বসিয়ে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইউনুস আলীর নেতৃত্বে বাবলু শেখের বাড়ি থেকে জলিল শেখের বাড়ি পর্যন্ত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কারকাজ করা হয়। এ সময় সংগঠনের কর্মীরা নিজেদের অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমে কাজে অংশ নেন।
সংস্কারকাজে মাওলানা মো. ইউনুস আলীর সঙ্গে কর্মী শাহারুল ইসলাম, শেখ ইউনুস আলী, হাফেজ মো. ফারুক হোসেন, মাস্টার আজিজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানের ইট উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে এসব স্থানে পানি ও কাদা জমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হতো। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি।
স্থানীয়দের জন্য সড়কটির গুরুত্বও অনেক। এটি কপোতাক্ষ নদের শ্যামনগর-কয়রা সংযোগ খেয়াঘাটের সঙ্গে কয়রা উপজেলা সদরের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ওই খেয়াঘাট ব্যবহার করে শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালী, চণ্ডীপুর, গাবুরা, খুটিকাটাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন কয়রা উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করেন। বাজার-সদাই, ব্যাংক-বিমা, চিকিৎসা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজের বিষয়ে মাওলানা মো. ইউনুস আলী বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো পদ-পদবি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। নিজেদের অর্থ ব্যয় করে এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়রা জানান, খেয়াঘাট থেকে কয়রা উপজেলা সদরের সড়কটির আরও কয়েকটি অংশ বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে যাওয়ায় বর্ষায় ওইসব অংশে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে আগামী দিনে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বর্ষা মৌসুমেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 




















