• লেখাপড়ায় অমনোযোগী, কলেজে অনিয়মিত এবং অভিভাবকদের অসচেতনতাকেও দুষছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের সন্তানদের প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখেননি
গত বছর দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করা বোর্ডটি এবার কীভাবে তলানিতে নামল–এ বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে বেশি ফল খারাপ করেছে। এর প্রভাবে বোর্ডের সামগ্রিক ফল বিপর্যয় হয়েছে।
অন্যদিকে বরিশালের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকেরা ফল বিপর্যয়ের পেছনে মোটা দাগে তিনটি কারণের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে দূরে সরে গেছে। তারা কলেজে নিয়মিত ছিল না। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাও তাঁদের সন্তানদের প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখেননি। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে কঠিন তিনটি বিষয়–ইংরেজি, উচ্চতর গণিত ও আইসিটিতে ভালো ফল করতে পারেনি। এর প্রভাব পড়েছে বোর্ডের সামগ্রিক ফলে।
যদিও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা শিক্ষকদের এই অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলছেন, এতটা খারাপ ফলাফলের জন্য কেবল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক দায়ী নন। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও দায় রয়েছে।
জানতে চাইলে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, ইংরেজিতে ফল খারাপ করায় মোট পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছে। বরিশাল বোর্ডে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার প্রায় ৫৩ শতাংশ। এবারের ফলাফল যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানান তিনি।
নগরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল ইসলামিয়া কলেজে এবার পাসের হার ২৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কলেজটি থেকে পাস করা এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আতিকুর রহমান বাপ্পি বলেন, ‘ফলাফলের যে বিপর্যয়, এর মধ্যেও ছেলে যে পাস করেছে তাতেই সন্তুষ্ট। তবে এতটা খারাপ ফলের জন্য কেবল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা দায়ী নন; বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়ও রয়েছে।’
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসমিয়া আক্তার বলেন, এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হওয়া, প্রশ্নপত্রের মানে তারতম্য এবং প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার কারণে ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়াও ফল খারাপের অন্যতম কারণ।
হিজলা উপজেলার সরকারি হিজলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিন মোহাম্মাদ জানান, ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে স্কুল থেকে দুর্বল হয়ে আসা এবং গণ–অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া না করে বিভিন্ন আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়াকে দায়ী করেছেন। এ ছাড়া এসএসসির পর ভালো শিক্ষার্থীদের শহরে চলে যাওয়াকেও তিনি দায়ী করেছেন।
বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে রাজপথে সময় ব্যয় করেছে। অভিভাবকেরাও সচেতন ছিলেন না। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিল না। এটা এক ধরনের সামাজিক সমস্যা। তা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সদ্য অবসরে যাওয়া চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে লেখাপড়া নেই। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে না।

দৈনিক টার্গেট 






















