হাসিনাকে নিয়ে ফের মুখোমুখি ঢাকা-দিল্লি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বক্তব্যের পর দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের বক্তব্যে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি বর্তমান বাংলাদেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বেড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এসব মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একই সঙ্গে ভারতের মাটিতে এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

ঢাকার পক্ষ থেকে আবারও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সরকার বলছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রত্যর্পণ জরুরি। এ বিষয়টি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ইস্যুতে ভারতের জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয় রয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের একটি অংশের মধ্যে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। সেই বাস্তবতায় নয়াদিল্লিকে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নির্ধারণে আরও সতর্ক ও বাস্তববাদী কৌশল গ্রহণ করতে হতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে, যা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকদের অভিমত, অতীতের রাজনৈতিক বিরোধকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত যদি পারস্পরিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম, নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ এবং পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্কই দুই দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।

হাসিনাকে নিয়ে ফের মুখোমুখি ঢাকা-দিল্লি

প্রকাশ: ০৪:০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বক্তব্যের পর দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের বক্তব্যে দাবি করা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি বর্তমান বাংলাদেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বেড়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এসব মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একই সঙ্গে ভারতের মাটিতে এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

ঢাকার পক্ষ থেকে আবারও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সরকার বলছে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রত্যর্পণ জরুরি। এ বিষয়টি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ইস্যুতে ভারতের জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয় রয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের একটি অংশের মধ্যে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। সেই বাস্তবতায় নয়াদিল্লিকে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নির্ধারণে আরও সতর্ক ও বাস্তববাদী কৌশল গ্রহণ করতে হতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে, যা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষকদের অভিমত, অতীতের রাজনৈতিক বিরোধকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত যদি পারস্পরিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম, নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ এবং পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্কই দুই দেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।