শিবচর (মাদারীপুর): আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের শিবচরে দত্তপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরিফ মোল্লার উদ্যোগে এক বিশাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকায় স্থানীয় ভোটার, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সমন্বয়ক আবদুল মোল্লার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের বিরাজমান নানা সমস্যা সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। বক্তারা আগামী নির্বাচনে ঘুষ, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত একটি আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরিফ মোল্লাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও এলাকার সুশাসন ফিরিয়ে আনতে আরিফ মোল্লার নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ মোল্লা বলেন, “আজকের এই মতবিনিময় সভায় আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও অমূল্য ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে অভিভূত করেছে। আপনাদের এই সমর্থন ও সুচিন্তিত মতামতই আমার মূল চালিকাশক্তি। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের মাঝে এসে আমি সত্যি আনন্দিত।”
এলাকার বিচার ব্যবস্থার নানা ত্রুটি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “দত্তপাড়ায় এখনো সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয়নি। আমি কথা দিচ্ছি, যদি আপনারা আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন, তবে এই ইউনিয়নে শতভাগ ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করব। আজ আপনাদের সামনে ওয়াদা করছি, আমি কারও ওপর কোনো জুলুম বা নির্যাতন হতে দেব না। আমার কোনো কর্মকাণ্ডের দ্বারা আপনাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ।”
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে ক্ষমা প্রার্থনা করে আরিফ মোল্লা বলেন, “আমি এই মাটিরই সন্তান। আপনাদের সঙ্গে সুখে-দুঃখে চলাফেরার মধ্য দিয়েই আমার দিন কাটে। অতীতে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত যদি কারও মনে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি কিংবা কোনো অন্যায় করে থাকি, তবে আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার এবং এই এলাকার সেবা করার দায়িত্ব আমি আজীবন পালন করে যেতে চাই।”
সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারি বরাহমগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তোতা মিয়া, আরশেদ হাওলাদার, মাস্টার গিয়াস উদ্দিন, মাস্টার শওকত আলী ও লিটন ঘরামীসহ ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রবীণ অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ। সভা শেষে এলাকার শান্তি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সালমা আক্তার লিজা 





















