বেনজীরকে ফেরাতে কোনো শৈথিল্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত ১৪৭ বিধির নোটিশের ওপর বক্তব্যকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রস্তাবের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সাধারণত বিরোধী দলের আনা প্রস্তাব গৃহীত হয় না। এ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা গেল।

সংসদে প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। ভোটে গৃহীত প্রস্তাবটি হলো—সংসদের অভিমত এই যে, ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইতে জামিন পেলেন—এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথা শিগগিরই জাতীয় সংসদকে অবহিত করবেন। এই ঘৃণ্য অপরাধীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? সে সম্পর্কে মীর আহমাদ বিন কাসেমকে এবং সংসদের প্রতিটি সদস্যদে যথাসময়ে যথা শিগগিরই অবহিত করবেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজিরসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না। তিনি জানান, বেনজীরের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নিজের বক্তব্যে ২০০৯ সাল থেকে গুম-খুন-নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বেনজীর আহমদকে ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নির্যাতনের হাতিয়ার এবং যে দুষ্কৃতকারীরা ছিল, তার মধ্যে শেখ হাসিনার পরে বেনজীরকে ‘নাম্বার ওয়ান’ বলা যায়।

বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে দায়ী না করে আপনারা সহযোগিতা করবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন এনসিবি আবুধাবি বাংলাদেশকে জানায়, বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইউএইর আইনে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর কথা থাকলেও বাংলাদেশ মাত্র চার দিনের মধ্যে, ১৬ জুন, কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্র্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি চলছে। ইউএইর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিপত্র ৪ আগস্ট পাঠানো হয়েছে। পরে আরও আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হলে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এ জন্য ইউএইতে একটি ল’ ফার্মও নিয়োগ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুডিশিয়াল প্রসেস ফলো করতে হবে। হ্যাঁ এখানেই প্রশ্ন। আমরা কাউকে ধরে বেঁধে ফাঁসি দিতে পারি না। একজন অপরাধী, যত বড় অপরাধীই হোক, তাকে জুডিশিয়াল প্রসেসের মধ্য দিয়ে এসেই এবং আদালতের রায় অনুসারে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই জুডিশিয়াল প্রসেসটা একটু লম্বা হয়। আইনের হাত যেমন লম্বা, জুডিশিয়াল প্রসেসটাও অনেক লম্বা। সুতরাং আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং জুডিশিয়াল প্রসেসের ওপর আমাদেরকে বিশ্বাস রাখতে হবে।’

শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীর আহমদসহ বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না।’ তিনি বলেন, তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা বিতর্ক করব, তর্ক করব, দ্বিমত হব, দ্বিমত পোষণ করব। কিন্তু ফ্যাসিজম, আওয়ামী লীগ ও পতন যেখানেই হোক তার প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা ধরে রাখতে এই ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বেনজীর আহমদসহ বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে একটি সেল গঠনের প্রস্তাব করেছে বিরোধীদলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মো. তাদের। একই সেঙ্গ তাঁদের এ দেশের সম্পত্তি সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারদের মাঝে বিতরণ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষই বেনজীরের বিষয়ে একমত। এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তিনি খুব সিরিয়াসলি আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে যে পদক্ষেপগুলোতে আমরা তার ফলাফল পাইনি। আশা করেছিলাম, তিনি এর ডেভেলপমেন্ট নিয়ে সংসদে আরেকটি বক্তব্য দেবেন। এটা হলে অনেকেরই কথাবার্তা শেষ হয়ে যেত।’

একটি বিশেষ সেল যদি গঠনের প্রস্তাব করে তাহের বলেন, ‘এই সেলের কাজই হবে বেনজীরসহ অন্যান্য ফ্যাসিস্ট যারা পলাতক আছে, তাদের ইস্যুটা সমাধান করা যায়, সেখানে মনযোগ দেবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশে ঢুকে পড়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও আওয়ামী লীগের পরিচিতরা মিটিং মিছিল করছে। তারা সংগঠিত হচ্ছে। অনেক সময় তাদের চিহ্নিত করে পুলিশতে তথ্য দিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ মোটেও তৎপর নয়। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এ জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে পুলিশকে নির্দেশনা দিতে হবে।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বেনজীর গ্রেপ্তার হওয়ার পরে সহজে বেরিয়ে গেল, এ জন্য আমরা কী কোনো আইনজীবী সংযুক্ত করেছিলাম কি না? দেখলাম একটি লবিষ্ট ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটা আগে দেওয়া হয়েছে? নাকি পরে হয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এটা স্পষ্ট করে জানতে চাই। স্বৈরাচার, সন্ত্রাসী-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের নরম হওয়া বা আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তারা এখানে আবার ঢুকে পড়লে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তর জন্য হুমকি হতে পারে।

বেনজীরসহ সব সন্ত্রাসীদের এদেশের সম্পত্তি সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারদের মাঝে বিতরণ করার প্রস্তাব করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা।

প্রস্তাব উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ‘আমাদের ভুক্তভোগীদের কষ্টের বিষয় হচ্ছে আমরা অনেক প্রতিশ্রুতির কথা শুনেছি। কিন্তু আমাদের অন্তর থেকে এই অনুভূতি আসেছে না, গত সরকার ও এই সরকার সত্যিকার অর্থে চেষ্টার মতো করে চেষ্টা করছে কী না? ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুবাইয়ে ছুটে গেলে বুঝতে পারতাম সরকার সত্যিকার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দুবাই সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে নিজের কাউকে পাঠালে কিংবা নিজে ছুটে গেলে বুঝতাম সরকার চেষ্টা করেছে। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এই সংসদে এসে নিজের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করলে মনে করতাম আন্তরিকভাবে তাঁরা চেষ্টা করেছে।’

সংসদ সদস্য কাসেম বলেন, ‘আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় এসে এই সরকার ঘাতকদের ফিরিয়ে আনা ও বিচারের বিষয়ে আদৌ কী আন্তরিক? তাহলে আমরা ভুক্তভোগীরা কেমন করে আশ্বস্ত হব? এই সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের আওতায় আনার কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। সত্যিকার অর্থে সরকারের আন্তরিকতা দেখতে পেলে আমাদের ভেতরে আজকের ক্ষোভ তৈরি হতো না।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বেনজীর দেশের দুশমন। জাতির দুশমন। তাই এদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নোটিশে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছে। তাকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। তিনি বলেন, সম্ভবত গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, কুখ্যাত আইজিপি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে গেছেন। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। এর অর্থ হলো, তিনি এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি জানিয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দিয়ে তাঁর ওপর নজর রাখতে। পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে ধরে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে এর একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। এখানে প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে বিবেচনার সুযোগ আছে। তাই সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে জোরালোভাবে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে, যাতে মামলাটি আলাদাভাবে বিবেচনা করে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

বেনজীরকে ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী নয়, যারা দেশের অর্থ লুট করে, মানুষ হত্যা করে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে—যেখানেই তারা থাকুক না কেন, তাদের প্রত্যেককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করবে।

এনসিপির আখতার হোসেন বলেন, ‘বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা শুনে আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে এই সংসদে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেবিল চাপড়িয়ে ধন্যবাদ জানালাম, সেই ধন্যবাদ উবে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংসদে ফ্রিতে জ্ঞান দেন। বেনজীরের বিষয়টি কী সেকরম ছিল কি না, জানতে চাই। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের আরও যারা শীর্ষ অপরাধী আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ আমরা জানতে চাই।’

ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী বেনজীর গ্রেপ্তারের পরে আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনে বিচার হয়েছে। এখানে কেবল বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা ও তৎপরতা থাকতে পারে। কীভাবে তিনি মুক্তি পেলেন এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা দেবেন। আমাদের সরকারের সাফল্যের কারণে দিল্লিতে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

পটুয়াখালী-৪ আসনের এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসন দীর্ঘায়িত করতে ভূমিকা রেখেছিল কুখ্যাত বেনজীর আহমেদ। তাকে আমরা এখনো আইনের আওতায় আনতে পারছি না। দুবাইয়ের আইনি মারপ্যাঁচের কারণে তাঁকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। এই বেনজীরকে যেকোনো প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিতে আনতে হবে। সরকারকে অনুরোধ করব, ভারতে শেখ হাসিনাসহ যারা অবস্থান করছে, তাদের বাংলাদেশের মাটিতে এনে কৃতকর্মের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের সংরক্ষিত আসনের এমপি মারজিয়া বেগম।

আকাশপথে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাছেই ৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকার বেশি পাওনা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। বছরের পর বছর বিমান বাংলাদেশ অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ পরিশোধ না করায় এই বকেয়া দাঁড়িয়েছে। পাঁচটি দেশীয় এয়ারলাইনসের কাছে বর্তমানে বেবিচকের মোট

চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

আরও পাঁচ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এসব কমিটিতেও সভাপতির পদ পায়নি বিরোধী দল। এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

বেনজীরকে ফেরাতে কোনো শৈথিল্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত ১৪৭ বিধির নোটিশের ওপর বক্তব্যকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রস্তাবের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সাধারণত বিরোধী দলের আনা প্রস্তাব গৃহীত হয় না। এ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা গেল।

সংসদে প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। ভোটে গৃহীত প্রস্তাবটি হলো—সংসদের অভিমত এই যে, ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইতে জামিন পেলেন—এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথা শিগগিরই জাতীয় সংসদকে অবহিত করবেন। এই ঘৃণ্য অপরাধীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? সে সম্পর্কে মীর আহমাদ বিন কাসেমকে এবং সংসদের প্রতিটি সদস্যদে যথাসময়ে যথা শিগগিরই অবহিত করবেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজিরসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না। তিনি জানান, বেনজীরের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নিজের বক্তব্যে ২০০৯ সাল থেকে গুম-খুন-নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বেনজীর আহমদকে ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নির্যাতনের হাতিয়ার এবং যে দুষ্কৃতকারীরা ছিল, তার মধ্যে শেখ হাসিনার পরে বেনজীরকে ‘নাম্বার ওয়ান’ বলা যায়।

বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে দায়ী না করে আপনারা সহযোগিতা করবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন এনসিবি আবুধাবি বাংলাদেশকে জানায়, বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইউএইর আইনে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর কথা থাকলেও বাংলাদেশ মাত্র চার দিনের মধ্যে, ১৬ জুন, কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্র্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি চলছে। ইউএইর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিপত্র ৪ আগস্ট পাঠানো হয়েছে। পরে আরও আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হলে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এ জন্য ইউএইতে একটি ল’ ফার্মও নিয়োগ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুডিশিয়াল প্রসেস ফলো করতে হবে। হ্যাঁ এখানেই প্রশ্ন। আমরা কাউকে ধরে বেঁধে ফাঁসি দিতে পারি না। একজন অপরাধী, যত বড় অপরাধীই হোক, তাকে জুডিশিয়াল প্রসেসের মধ্য দিয়ে এসেই এবং আদালতের রায় অনুসারে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই জুডিশিয়াল প্রসেসটা একটু লম্বা হয়। আইনের হাত যেমন লম্বা, জুডিশিয়াল প্রসেসটাও অনেক লম্বা। সুতরাং আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং জুডিশিয়াল প্রসেসের ওপর আমাদেরকে বিশ্বাস রাখতে হবে।’

শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীর আহমদসহ বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না।’ তিনি বলেন, তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা বিতর্ক করব, তর্ক করব, দ্বিমত হব, দ্বিমত পোষণ করব। কিন্তু ফ্যাসিজম, আওয়ামী লীগ ও পতন যেখানেই হোক তার প্রতিরোধের জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা ধরে রাখতে এই ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে বেনজীর আহমদসহ বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে একটি সেল গঠনের প্রস্তাব করেছে বিরোধীদলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মো. তাদের। একই সেঙ্গ তাঁদের এ দেশের সম্পত্তি সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারদের মাঝে বিতরণ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষই বেনজীরের বিষয়ে একমত। এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তিনি খুব সিরিয়াসলি আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে যে পদক্ষেপগুলোতে আমরা তার ফলাফল পাইনি। আশা করেছিলাম, তিনি এর ডেভেলপমেন্ট নিয়ে সংসদে আরেকটি বক্তব্য দেবেন। এটা হলে অনেকেরই কথাবার্তা শেষ হয়ে যেত।’

একটি বিশেষ সেল যদি গঠনের প্রস্তাব করে তাহের বলেন, ‘এই সেলের কাজই হবে বেনজীরসহ অন্যান্য ফ্যাসিস্ট যারা পলাতক আছে, তাদের ইস্যুটা সমাধান করা যায়, সেখানে মনযোগ দেবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশে ঢুকে পড়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও আওয়ামী লীগের পরিচিতরা মিটিং মিছিল করছে। তারা সংগঠিত হচ্ছে। অনেক সময় তাদের চিহ্নিত করে পুলিশতে তথ্য দিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ মোটেও তৎপর নয়। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এ জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে পুলিশকে নির্দেশনা দিতে হবে।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বেনজীর গ্রেপ্তার হওয়ার পরে সহজে বেরিয়ে গেল, এ জন্য আমরা কী কোনো আইনজীবী সংযুক্ত করেছিলাম কি না? দেখলাম একটি লবিষ্ট ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটা আগে দেওয়া হয়েছে? নাকি পরে হয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এটা স্পষ্ট করে জানতে চাই। স্বৈরাচার, সন্ত্রাসী-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের নরম হওয়া বা আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তারা এখানে আবার ঢুকে পড়লে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তর জন্য হুমকি হতে পারে।

বেনজীরসহ সব সন্ত্রাসীদের এদেশের সম্পত্তি সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারদের মাঝে বিতরণ করার প্রস্তাব করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা।

প্রস্তাব উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ‘আমাদের ভুক্তভোগীদের কষ্টের বিষয় হচ্ছে আমরা অনেক প্রতিশ্রুতির কথা শুনেছি। কিন্তু আমাদের অন্তর থেকে এই অনুভূতি আসেছে না, গত সরকার ও এই সরকার সত্যিকার অর্থে চেষ্টার মতো করে চেষ্টা করছে কী না? ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুবাইয়ে ছুটে গেলে বুঝতে পারতাম সরকার সত্যিকার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দুবাই সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে নিজের কাউকে পাঠালে কিংবা নিজে ছুটে গেলে বুঝতাম সরকার চেষ্টা করেছে। সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এই সংসদে এসে নিজের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করলে মনে করতাম আন্তরিকভাবে তাঁরা চেষ্টা করেছে।’

সংসদ সদস্য কাসেম বলেন, ‘আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় এসে এই সরকার ঘাতকদের ফিরিয়ে আনা ও বিচারের বিষয়ে আদৌ কী আন্তরিক? তাহলে আমরা ভুক্তভোগীরা কেমন করে আশ্বস্ত হব? এই সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের আওতায় আনার কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। সত্যিকার অর্থে সরকারের আন্তরিকতা দেখতে পেলে আমাদের ভেতরে আজকের ক্ষোভ তৈরি হতো না।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বেনজীর দেশের দুশমন। জাতির দুশমন। তাই এদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নোটিশে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছে। তাকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। তিনি বলেন, সম্ভবত গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে, কুখ্যাত আইজিপি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে গেছেন। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। এর অর্থ হলো, তিনি এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি জানিয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে, তাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দিয়ে তাঁর ওপর নজর রাখতে। পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে ধরে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে এর একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। এখানে প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে বিবেচনার সুযোগ আছে। তাই সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে জোরালোভাবে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে, যাতে মামলাটি আলাদাভাবে বিবেচনা করে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

বেনজীরকে ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী নয়, যারা দেশের অর্থ লুট করে, মানুষ হত্যা করে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে—যেখানেই তারা থাকুক না কেন, তাদের প্রত্যেককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করবে।

এনসিপির আখতার হোসেন বলেন, ‘বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা শুনে আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে এই সংসদে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেবিল চাপড়িয়ে ধন্যবাদ জানালাম, সেই ধন্যবাদ উবে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংসদে ফ্রিতে জ্ঞান দেন। বেনজীরের বিষয়টি কী সেকরম ছিল কি না, জানতে চাই। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের আরও যারা শীর্ষ অপরাধী আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ আমরা জানতে চাই।’

ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী বেনজীর গ্রেপ্তারের পরে আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনে বিচার হয়েছে। এখানে কেবল বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা ও তৎপরতা থাকতে পারে। কীভাবে তিনি মুক্তি পেলেন এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা দেবেন। আমাদের সরকারের সাফল্যের কারণে দিল্লিতে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

পটুয়াখালী-৪ আসনের এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসন দীর্ঘায়িত করতে ভূমিকা রেখেছিল কুখ্যাত বেনজীর আহমেদ। তাকে আমরা এখনো আইনের আওতায় আনতে পারছি না। দুবাইয়ের আইনি মারপ্যাঁচের কারণে তাঁকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। এই বেনজীরকে যেকোনো প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিতে আনতে হবে। সরকারকে অনুরোধ করব, ভারতে শেখ হাসিনাসহ যারা অবস্থান করছে, তাদের বাংলাদেশের মাটিতে এনে কৃতকর্মের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের সংরক্ষিত আসনের এমপি মারজিয়া বেগম।

আকাশপথে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাছেই ৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকার বেশি পাওনা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। বছরের পর বছর বিমান বাংলাদেশ অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ পরিশোধ না করায় এই বকেয়া দাঁড়িয়েছে। পাঁচটি দেশীয় এয়ারলাইনসের কাছে বর্তমানে বেবিচকের মোট

চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

আরও পাঁচ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এসব কমিটিতেও সভাপতির পদ পায়নি বিরোধী দল। এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।