পাইকারি-খুচরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৮০ বার পঠিত হয়েছে

দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি ও খুচরা-উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘোষিত এই মূল্যহার ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির পক্ষ থেকে নতুন ট্যারিফের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন ঘোষণায় পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ফলে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৫২ পয়সা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে গ্রাহকদের। এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

বিদ্যুতের মূল্য পুনর্নির্ধারণের আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ের বিষয় তুলে ধরে মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।

বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পাইকারি বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণার ফলে শিল্প, বাণিজ্যিক খাত এবং সাধারণ ভোক্তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি একদিকে বিতরণ সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে, তবে অন্যদিকে এটি উৎপাদন ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মূল্যহারের প্রভাব আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাইকারি-খুচরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশ: ০৩:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি ও খুচরা-উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘোষিত এই মূল্যহার ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির পক্ষ থেকে নতুন ট্যারিফের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন ঘোষণায় পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ফলে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৫২ পয়সা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে গ্রাহকদের। এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

বিদ্যুতের মূল্য পুনর্নির্ধারণের আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ের বিষয় তুলে ধরে মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।

বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পাইকারি বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণার ফলে শিল্প, বাণিজ্যিক খাত এবং সাধারণ ভোক্তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি একদিকে বিতরণ সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে, তবে অন্যদিকে এটি উৎপাদন ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নতুন মূল্যহারের প্রভাব আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।