ইমরান খানকে নিয়ে সংকটে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত হয়েছে

কারাবন্দী এই নেতার মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী মার্চের ঘোষণা দিয়েছে তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। আসন্ন এই কর্মসূচি ব্যর্থ করে দিতে কয়েক দিন আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, বিক্ষোভের আগে ইমরানের দুই বোনসহ পরিবারের কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইমরান খানকে ঘিরে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমেও। পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে প্রায়ই তাঁকে পিটিআইয়ের ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় ইমরান খানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হয়েছে। তবে তাঁর দল বলছে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অধিকাংশ দণ্ডই পরে স্থগিত বা আপিলে বাতিল হয়েছে।

২০২৩ সালে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর সমর্থকেরা লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউসসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালান। এরপর দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয় এবং হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইমরানপন্থীরা আবার ইসলামাবাদে মিছিল করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে পিটিআই ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

ইমরানের রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারক গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিচারিক সিদ্ধান্তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। একই বছর নির্বাচনে পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এরপরও ইমরানপন্থী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে জয় পান। বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে শাহবাজ শরিফ সরকার গঠিত হয়।

এদিকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের অবস্থান জোরদারে সক্রিয় হলেও দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন তাঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাননি। তাঁর স্থলে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নিউইয়র্কে চলা সাধারণ পরিষদের বিতর্কে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে…

আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ–মিছিলের ডাক দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টি (পিটিআই)। এই বিক্ষোভ ব্যর্থ করতে প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শিপিং কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধ করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবাধ অগ্রগতির পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ‘টার্মিনেটর’ সিনেমা ধাঁচের মহাপ্রলয় নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি এখনো কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। বরং এআইয়ের অন্য ধরনের ক্ষতি এরই মধ্যে বাস্তবে দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

নেতিবাচক মন্তব্য থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে চান জনপ্রিয় ব্যতিক্রমী দম্পতি

ইমরান খানকে নিয়ে সংকটে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী

প্রকাশ: ১২:১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাবন্দী এই নেতার মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী মার্চের ঘোষণা দিয়েছে তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। আসন্ন এই কর্মসূচি ব্যর্থ করে দিতে কয়েক দিন আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, বিক্ষোভের আগে ইমরানের দুই বোনসহ পরিবারের কয়েক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইমরান খানকে ঘিরে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমেও। পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে তাঁর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে প্রায়ই তাঁকে পিটিআইয়ের ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় ইমরান খানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হয়েছে। তবে তাঁর দল বলছে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অধিকাংশ দণ্ডই পরে স্থগিত বা আপিলে বাতিল হয়েছে।

২০২৩ সালে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর সমর্থকেরা লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউসসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালান। এরপর দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয় এবং হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইমরানপন্থীরা আবার ইসলামাবাদে মিছিল করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে পিটিআই ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

ইমরানের রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারক গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিচারিক সিদ্ধান্তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। একই বছর নির্বাচনে পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এরপরও ইমরানপন্থী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে জয় পান। বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে শাহবাজ শরিফ সরকার গঠিত হয়।

এদিকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের অবস্থান জোরদারে সক্রিয় হলেও দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন তাঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাননি। তাঁর স্থলে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নিউইয়র্কে চলা সাধারণ পরিষদের বিতর্কে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভারতের হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে…

আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ–মিছিলের ডাক দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টি (পিটিআই)। এই বিক্ষোভ ব্যর্থ করতে প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শিপিং কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরোধ করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবাধ অগ্রগতির পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ‘টার্মিনেটর’ সিনেমা ধাঁচের মহাপ্রলয় নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি এখনো কল্পবিজ্ঞানের বিষয়। বরং এআইয়ের অন্য ধরনের ক্ষতি এরই মধ্যে বাস্তবে দেখা দিয়েছে।