সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক: যে ব্যাখ্যা দিলেন ডা. জাহেদ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:১৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

সম্প্রতি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশের আগেই চাকরিপ্রার্থী ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা প্রার্থীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করা নয়। প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি দক্ষ, যোগ্য ও মেধাভিত্তিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নীতিগত সংশোধন আনা হয়েছে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সচিব কমিটিতে উপস্থাপিত যুক্তিতে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে শুধু লিখিত নম্বরের ওপর নির্ভর না করে মৌখিক পরীক্ষার পরিধি সম্প্রসারিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সরকার প্রশাসনে ‘মেরিটোক্রেসি’ বা মেধাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

সচিব কমিটিতে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিভিল প্রশাসনের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে নিয়োগের ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার নম্বরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে:

১১ ও ১২তম গ্রেড: বিদ্যমান ১০ নম্বরের ভাইভাকে বাড়িয়ে ৫০ নম্বর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০০ শতাংশ বেশি। লিখিত পরীক্ষায় মোট নম্বর ৯০-এর বদলে ১০০ হলেও, পাসের ন্যূনতম নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

১৩ থেকে ১৬তম গ্রেড: ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ এবং লিখিত নম্বর ৯০ থেকে কমিয়ে ৬০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব গ্রেডে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হচ্ছে।

১৭ থেকে ২০তম গ্রেড: বিদ্যমান বিধিতে ভাইভায় ১০ ও লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর থাকলেও, প্রস্তাবিত বিধিতে উভয় অংশেই সমান ২৫ করে নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে পরিচালিত নিয়োগ এবং সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসারের মতো শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে এই নতুন নীতি প্রযোজ্য হবে না।

বর্তমানে দেশের সিভিল প্রশাসনে কর্মরত মোট কর্মচারীদের প্রায় ৬৫ শতাংশই (প্রায় সোয়া ১৩ লাখ) এই ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের আওতাভুক্ত। ১ থেকে ১০তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের নিয়োগ সরাসরি পিএসসির অধীনে হলেও, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তরগুলো। পিএসসির তুলনায় এসব স্বায়ত্তশাসিত বা দাপ্তরিক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলনামূলক অনেক বেশি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবায় দালালদের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকের কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে কার্যালয়ে অবস্থান করেন।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ ও বিদেশে সরকারি সফরের ভ্রমণ ব্যয় পরিশোধ এবং অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ভ্রমণ শেষে মূল বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক প্রমাণক সংযুক্ত করা, এক মাসের মধ্যে আগের অগ্রিম অর্থ সমন্বয় করা এবং তিন সেট নথি দাখিল করার

জনপ্রিয় টার্গেট

মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক: যে ব্যাখ্যা দিলেন ডা. জাহেদ

প্রকাশ: ০৪:১৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশের আগেই চাকরিপ্রার্থী ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা প্রার্থীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করা নয়। প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি দক্ষ, যোগ্য ও মেধাভিত্তিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নীতিগত সংশোধন আনা হয়েছে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সচিব কমিটিতে উপস্থাপিত যুক্তিতে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে শুধু লিখিত নম্বরের ওপর নির্ভর না করে মৌখিক পরীক্ষার পরিধি সম্প্রসারিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সরকার প্রশাসনে ‘মেরিটোক্রেসি’ বা মেধাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

সচিব কমিটিতে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিভিল প্রশাসনের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে নিয়োগের ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার নম্বরে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে:

১১ ও ১২তম গ্রেড: বিদ্যমান ১০ নম্বরের ভাইভাকে বাড়িয়ে ৫০ নম্বর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০০ শতাংশ বেশি। লিখিত পরীক্ষায় মোট নম্বর ৯০-এর বদলে ১০০ হলেও, পাসের ন্যূনতম নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

১৩ থেকে ১৬তম গ্রেড: ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ এবং লিখিত নম্বর ৯০ থেকে কমিয়ে ৬০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব গ্রেডে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হচ্ছে।

১৭ থেকে ২০তম গ্রেড: বিদ্যমান বিধিতে ভাইভায় ১০ ও লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর থাকলেও, প্রস্তাবিত বিধিতে উভয় অংশেই সমান ২৫ করে নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে পরিচালিত নিয়োগ এবং সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও আনসারের মতো শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে এই নতুন নীতি প্রযোজ্য হবে না।

বর্তমানে দেশের সিভিল প্রশাসনে কর্মরত মোট কর্মচারীদের প্রায় ৬৫ শতাংশই (প্রায় সোয়া ১৩ লাখ) এই ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের আওতাভুক্ত। ১ থেকে ১০তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের নিয়োগ সরাসরি পিএসসির অধীনে হলেও, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তরগুলো। পিএসসির তুলনায় এসব স্বায়ত্তশাসিত বা দাপ্তরিক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলনামূলক অনেক বেশি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবায় দালালদের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকের কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে কার্যালয়ে অবস্থান করেন।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ ও বিদেশে সরকারি সফরের ভ্রমণ ব্যয় পরিশোধ এবং অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ভ্রমণ শেষে মূল বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক প্রমাণক সংযুক্ত করা, এক মাসের মধ্যে আগের অগ্রিম অর্থ সমন্বয় করা এবং তিন সেট নথি দাখিল করার