বিমানবন্দর নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি; বছরে অন্তত দুইবার বৈঠক করবে এনসিএএসসি।

বিমান নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন, নীতিনির্ধারণে নতুন দায়িত্ব

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:১৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সমন্বিত এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি (এনসিএএসসি) নতুনভাবে পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন এই কমিটি বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে। সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। কমিটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা)।

বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্ব

নবগঠিত কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা সংস্থা, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমান নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বিত কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কী কী দায়িত্ব পালন করবে কমিটি

কমিটির প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা হালনাগাদ করার সুপারিশ।

২. সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান।

৩. বিভিন্ন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা জোরদারের সুপারিশ।

৪. জাতীয় বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।

৫. বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া।

৬. নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সময় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সুপারিশ করা।

৭. বিমানবন্দর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অন্যান্য কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

৮. আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) সংক্রান্ত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় বিমান নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনায়ও কমিটি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।

বিশেষজ্ঞ যুক্ত করার সুযোগ

প্রয়োজনে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি কিংবা কৌশলগত বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের অ্যাডহক সদস্য হিসেবে সভায় আমন্ত্রণ জানানো যাবে। পাশাপাশি নতুন নিরাপত্তা প্রযুক্তি বা পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য পৃথক উপকমিটি গঠনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রথম বৈঠক শিগগিরই

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠিত কমিটির প্রথম সভা আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সমন্বিত কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির সভাপতি বছরে অন্তত দুইবার সভা আহ্বান করবেন, যাতে বিমান নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নীতিমালা ও কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

বিমানবন্দর নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি; বছরে অন্তত দুইবার বৈঠক করবে এনসিএএসসি।

বিমান নিরাপত্তা জোরদারে জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন, নীতিনির্ধারণে নতুন দায়িত্ব

প্রকাশ: ০৭:১৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সমন্বিত এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি (এনসিএএসসি) নতুনভাবে পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন এই কমিটি বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে। সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। কমিটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা)।

বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্ব

নবগঠিত কমিটিতে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা সংস্থা, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমান নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বিত কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কী কী দায়িত্ব পালন করবে কমিটি

কমিটির প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা হালনাগাদ করার সুপারিশ।

২. সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান।

৩. বিভিন্ন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা জোরদারের সুপারিশ।

৪. জাতীয় বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।

৫. বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া।

৬. নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের সময় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সুপারিশ করা।

৭. বিমানবন্দর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অন্যান্য কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

৮. আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) সংক্রান্ত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় বিমান নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনায়ও কমিটি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।

বিশেষজ্ঞ যুক্ত করার সুযোগ

প্রয়োজনে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি কিংবা কৌশলগত বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের অ্যাডহক সদস্য হিসেবে সভায় আমন্ত্রণ জানানো যাবে। পাশাপাশি নতুন নিরাপত্তা প্রযুক্তি বা পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য পৃথক উপকমিটি গঠনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রথম বৈঠক শিগগিরই

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠিত কমিটির প্রথম সভা আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সমন্বিত কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির সভাপতি বছরে অন্তত দুইবার সভা আহ্বান করবেন, যাতে বিমান নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নীতিমালা ও কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।