পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ দুপুরে রাষ্ট্রপতির ব্যবহৃত সরকারি বাসভবন ছেড়ে রাজধানী গুলশানের নিজ ব্যক্তিগত বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর অবস্থানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, বাসভবন ত্যাগ করার আগে বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত সৌজন্য ও বিদায় সাক্ষাৎ করেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়লগ্নে তাঁকে সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতির সালাম গ্রহণ শেষে বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে তাঁর গাড়িবহর বঙ্গভবনের মূল ফটক অতিক্রম করে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে দেশে যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে, তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর থাকা না-থাকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার আলোকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুরুত্বপূর্ণ ও ঘাত-প্রতিঘাতময় ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ক্ষমতা হস্তান্তর ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর অবস্থান ও বক্তব্য রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন বা দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী বঙ্গভবনের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করা হবে। রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়া সাপেক্ষে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে বঙ্গভবন প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সাংবিধানিক সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, তা বাস্তবায়নে মো. সাহাবুদ্দিনের এই পদত্যাগ এবং বঙ্গভবন ত্যাগ একটি বড় পরিবর্তন চিহ্নিত করল।
মোহাম্মদ আমিনুল হক ভূঁইয়া 






















