রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:২৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত হয়েছে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং একই সঙ্গে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছুটা সময় লাগলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

যদিও সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম এখনো নিশ্চিত নয়, রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মনোনীত কোনো ব্যক্তিই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি স্বাস্থ্যগত কারণকে সামনে রেখে দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। এমনও আলোচনা রয়েছে যে পদত্যাগের পর কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন। তবে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সরকার পরিবর্তন, জাতীয় সংসদ বিলুপ্তি এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে ওই সময় থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে কোনো সরকারই তাঁকে অপসারণ বা পদত্যাগে বাধ্য করার উদ্যোগ নেয়নি।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যেও রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন-পরবর্তী কোনো এক পর্যায়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে। পরে চলতি বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সত্য হলে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত একজনকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর সুযোগ পাবে বিএনপি। ফলে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন, বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা রাষ্ট্রপতির নিজস্ব ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। তাই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রভিত্তিক তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন

প্রকাশ: ০১:২৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং একই সঙ্গে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছুটা সময় লাগলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

যদিও সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম এখনো নিশ্চিত নয়, রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মনোনীত কোনো ব্যক্তিই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি স্বাস্থ্যগত কারণকে সামনে রেখে দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। এমনও আলোচনা রয়েছে যে পদত্যাগের পর কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন। তবে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সরকার পরিবর্তন, জাতীয় সংসদ বিলুপ্তি এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে ওই সময় থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে কোনো সরকারই তাঁকে অপসারণ বা পদত্যাগে বাধ্য করার উদ্যোগ নেয়নি।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যেও রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন-পরবর্তী কোনো এক পর্যায়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে। পরে চলতি বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর সত্য হলে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত একজনকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর সুযোগ পাবে বিএনপি। ফলে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন, বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা রাষ্ট্রপতির নিজস্ব ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। তাই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রভিত্তিক তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।