বই মুদ্রণ টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত হয়েছে

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, সমন্বিত দরপত্র এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, টেন্ডারের সময়সূচি একাধিকবার পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে, যার কারণে সরকারের শত শত কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাছের টুকু এবং বিতরণ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মতিউর রহমান পাঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কয়েকজন প্রেস মালিকের সঙ্গে সমন্বয় করে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী সুবিধা পায়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই মুদ্রণের দরপত্র প্রথমে ২৪ ও ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে খোলার কথা থাকলেও পরে তা ২ জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দরপত্র জমা দেওয়ার সময়ও পরিবর্তন করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সময় বৃদ্ধির সুযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া দর স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে শুধু প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি এবং ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির বই মুদ্রণেই সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

অভিযোগকারীরা আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত টিচার্স গাইড (চার রঙা) বইয়ের টেন্ডারে প্রতি ফর্মার মূল্য ছিল ২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ চলতি টেন্ডারে একই ধরনের কাজের জন্য প্রতি ফর্মার দর প্রায় ৩ টাকা ৫৮ পয়সায় পৌঁছেছে। তাদের দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সামগ্রিকভাবে সরকারের অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এছাড়া কয়েকজন প্রেস মালিকের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং দর নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ।

বই মুদ্রণ টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ১১:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, সমন্বিত দরপত্র এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, টেন্ডারের সময়সূচি একাধিকবার পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুবিধা পেয়েছে, যার কারণে সরকারের শত শত কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাছের টুকু এবং বিতরণ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মতিউর রহমান পাঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কয়েকজন প্রেস মালিকের সঙ্গে সমন্বয় করে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী সুবিধা পায়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই মুদ্রণের দরপত্র প্রথমে ২৪ ও ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে খোলার কথা থাকলেও পরে তা ২ জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দরপত্র জমা দেওয়ার সময়ও পরিবর্তন করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সময় বৃদ্ধির সুযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া দর স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে শুধু প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি এবং ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির বই মুদ্রণেই সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

অভিযোগকারীরা আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত টিচার্স গাইড (চার রঙা) বইয়ের টেন্ডারে প্রতি ফর্মার মূল্য ছিল ২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ চলতি টেন্ডারে একই ধরনের কাজের জন্য প্রতি ফর্মার দর প্রায় ৩ টাকা ৫৮ পয়সায় পৌঁছেছে। তাদের দাবি, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সামগ্রিকভাবে সরকারের অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এছাড়া কয়েকজন প্রেস মালিকের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং দর নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করবে—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ।