কেরানীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ১২ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেফতার হয়েছে, চলছে অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান।

১২ দিন পর কিশোরী উদ্ধার, গ্রেফতার ২

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকার একটি আলোচিত অপহরণ মামলায় ১২ দিন পর ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরী বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ২০২৬ সকালে কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার (১২) বান্ধবীদের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে তার মা বর্না বেগম ২১ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আবির (২৩) নামে এক যুবক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে সহযোগীদের নিয়ে কৌশলে তাকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, অপহরণের পর জাল জন্মনিবন্ধন তৈরি করে নাবালিকা কিশোরীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তবে বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার ও প্রকৃত জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স মাত্র ১২ বছর।

মামলাটির তদন্তভার পান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই আরিফুজ্জামান মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক তদন্তের ভিত্তিতে ১ জুলাই মানিকনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, পুরো উদ্ধার অভিযান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তদারকিতে পরিচালিত হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরীকে উদ্ধার করার খবরে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দ্রুত ও সফল অভিযানের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কেরানীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ১২ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজন গ্রেফতার হয়েছে, চলছে অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান।

১২ দিন পর কিশোরী উদ্ধার, গ্রেফতার ২

প্রকাশ: ০৬:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকার একটি আলোচিত অপহরণ মামলায় ১২ দিন পর ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরী বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন ২০২৬ সকালে কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার (১২) বান্ধবীদের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে তার মা বর্না বেগম ২১ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আবির (২৩) নামে এক যুবক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে সহযোগীদের নিয়ে কৌশলে তাকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, অপহরণের পর জাল জন্মনিবন্ধন তৈরি করে নাবালিকা কিশোরীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তবে বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার ও প্রকৃত জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স মাত্র ১২ বছর।

মামলাটির তদন্তভার পান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই আরিফুজ্জামান মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক তদন্তের ভিত্তিতে ১ জুলাই মানিকনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, পুরো উদ্ধার অভিযান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তদারকিতে পরিচালিত হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরীকে উদ্ধার করার খবরে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দ্রুত ও সফল অভিযানের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।