৪ গুণের দোয়া শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:২১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত হয়েছে

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন সঠিক পথের অনুসরণ, আল্লাহর প্রতি ভয় ও আনুগত্য, পবিত্র চরিত্র এবং মানুষের কাছে অমুখাপেক্ষী সম্মানজনক জীবন। এসব গুরুত্বপূর্ণ গুণ অর্জনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।

হাদিসে বর্ণিত এই দোয়ায় একজন মুসলমানের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চারটি বড় নিয়ামত প্রার্থনা করা হয়েছে। এগুলো হলো— হিদায়াত, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং অন্তরের সচ্ছলতা।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত-তুকা, ওয়াল-আফাফা, ওয়াল-গিনা।

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রার্থনা করছি।” (সহিহ মুসলিম: ২৭২১)

হিদায়াত: সঠিক পথে থাকার সবচেয়ে বড় নিয়ামত

দোয়াটির প্রথম প্রার্থনা হলো হিদায়াত। মানুষের জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বোঝার জন্য আল্লাহর পথনির্দেশ অপরিহার্য। এ কারণেই প্রতিদিনের নামাজে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে সরল পথের দিশা চেয়ে থাকে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন-
“আমাদের সরল পথের হিদায়াত দিন।” (সুরা আল-ফাতিহা: ৬)

তাকওয়া: আল্লাহর ভয় ও আনুগত্যের গুণ

তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার শক্তি দেয়। একজন তাকওয়াবান ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন-
“আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, নিশ্চয় সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।” (সুরা আল-বাকারা: ১৯৭)

চারিত্রিক পবিত্রতা: আত্মসংযমের শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়ায় আল-আফাফ বা পবিত্রতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর অর্থ হলো নিজেকে হারাম কাজ, অশ্লীলতা, লোভ ও অনৈতিকতা থেকে রক্ষা করা।

একজন মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য তার উত্তম চরিত্র, লজ্জাশীলতা ও আত্মসংযমের মধ্যে প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সংযমী জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অমুখাপেক্ষিতা: অন্তরের প্রকৃত সম্পদ

দোয়াটির শেষ অংশে চাওয়া হয়েছে আল-গিনা বা সচ্ছলতা। এটি শুধু অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য নয়; বরং এমন অন্তরের প্রশান্তি, যেখানে মানুষ আল্লাহর ওপর নির্ভর করে এবং অযথা মানুষের কাছে হাত পাততে হয় না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত সম্পদ বেশি সম্পদের নাম নয়; বরং প্রকৃত সম্পদ হলো অন্তরের প্রাচুর্য। (সহিহ বুখারি: ৬৪৪৬, সহিহ মুসলিম: ১০৫১)

জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই ছোট দোয়াটি একজন মুসলমানের জীবন পরিচালনার জন্য বড় শিক্ষা বহন করে। এতে এমন চারটি গুণের আবেদন করা হয়েছে, যা একজন মানুষকে দুনিয়ায় সুন্দর জীবন এবং আখিরাতে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে পারে।

তাই এই দোয়াটি মুখস্থ করার পাশাপাশি নিয়মিত আমল করা, নামাজের পর এবং ব্যক্তিগত মোনাজাতে আল্লাহর কাছে এসব নিয়ামত প্রার্থনা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতার নিয়ামত দান করুন। আমিন।

মুক্তপিডিয়া
বাংলা ভাষার মুক্ত বিশ্বকোষ
ভিজিট করুন

৪ গুণের দোয়া শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)

প্রকাশ: ০২:২১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন সঠিক পথের অনুসরণ, আল্লাহর প্রতি ভয় ও আনুগত্য, পবিত্র চরিত্র এবং মানুষের কাছে অমুখাপেক্ষী সম্মানজনক জীবন। এসব গুরুত্বপূর্ণ গুণ অর্জনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।

হাদিসে বর্ণিত এই দোয়ায় একজন মুসলমানের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চারটি বড় নিয়ামত প্রার্থনা করা হয়েছে। এগুলো হলো— হিদায়াত, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং অন্তরের সচ্ছলতা।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত-তুকা, ওয়াল-আফাফা, ওয়াল-গিনা।

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রার্থনা করছি।” (সহিহ মুসলিম: ২৭২১)

হিদায়াত: সঠিক পথে থাকার সবচেয়ে বড় নিয়ামত

দোয়াটির প্রথম প্রার্থনা হলো হিদায়াত। মানুষের জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বোঝার জন্য আল্লাহর পথনির্দেশ অপরিহার্য। এ কারণেই প্রতিদিনের নামাজে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে সরল পথের দিশা চেয়ে থাকে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন-
“আমাদের সরল পথের হিদায়াত দিন।” (সুরা আল-ফাতিহা: ৬)

তাকওয়া: আল্লাহর ভয় ও আনুগত্যের গুণ

তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার শক্তি দেয়। একজন তাকওয়াবান ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন-
“আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো, নিশ্চয় সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।” (সুরা আল-বাকারা: ১৯৭)

চারিত্রিক পবিত্রতা: আত্মসংযমের শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়ায় আল-আফাফ বা পবিত্রতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর অর্থ হলো নিজেকে হারাম কাজ, অশ্লীলতা, লোভ ও অনৈতিকতা থেকে রক্ষা করা।

একজন মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য তার উত্তম চরিত্র, লজ্জাশীলতা ও আত্মসংযমের মধ্যে প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সংযমী জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অমুখাপেক্ষিতা: অন্তরের প্রকৃত সম্পদ

দোয়াটির শেষ অংশে চাওয়া হয়েছে আল-গিনা বা সচ্ছলতা। এটি শুধু অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য নয়; বরং এমন অন্তরের প্রশান্তি, যেখানে মানুষ আল্লাহর ওপর নির্ভর করে এবং অযথা মানুষের কাছে হাত পাততে হয় না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত সম্পদ বেশি সম্পদের নাম নয়; বরং প্রকৃত সম্পদ হলো অন্তরের প্রাচুর্য। (সহিহ বুখারি: ৬৪৪৬, সহিহ মুসলিম: ১০৫১)

জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই ছোট দোয়াটি একজন মুসলমানের জীবন পরিচালনার জন্য বড় শিক্ষা বহন করে। এতে এমন চারটি গুণের আবেদন করা হয়েছে, যা একজন মানুষকে দুনিয়ায় সুন্দর জীবন এবং আখিরাতে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে পারে।

তাই এই দোয়াটি মুখস্থ করার পাশাপাশি নিয়মিত আমল করা, নামাজের পর এবং ব্যক্তিগত মোনাজাতে আল্লাহর কাছে এসব নিয়ামত প্রার্থনা করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতার নিয়ামত দান করুন। আমিন।