আমিনা (রা.) যখন মহানবী (সা.)-কে গর্ভে ধারণ করেন এবং পরম মমতায় প্রসূতি প্রকোষ্ঠে জন্ম দেন, তখন সেই কক্ষে উপস্থিত থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রথম কোলে তুলে নেওয়ার ঐতিহাসিক সৌভাগ্য হয়েছিল এই বারাকাহর। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহর ইন্তেকালের পর থেকেই তিনি ছিলেন পরিবারের পরম বিশ্বস্ত আলো। মাত্র ছয় বছর বয়সে মদিনা থেকে ফেরার পথে ‘আবওয়া’ নামক শুষ্ক মরুপ্রান্তরে যখন মা আমিনা শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন সেই নির্জনতার বুকে একাকী এতিম শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে বুকে জড়িয়ে পরম মায়ায় মক্কায় দাদা আবদুল মুত্তালিবের কোলে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। মাতৃহীন শিশুর চোখের জল মুছে দিয়ে যিনি পরম স্নেহে মায়ের অভাব ভুলিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এই উম্মে আইমান। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাই সারা জীবন তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণে রেখে বলতেন, ‘উম্মে আইমান আমার মায়ের পর আরেক মা।’
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বারাকাহকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে দেন নবীজি (সা.)। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিবাহ হয় এবং কোলজুড়ে আসে পুত্র আইমান, যাঁর নামানুসারে তিনি ‘উম্মে আইমান’ (আইমানের মা) নামে প্রখ্যাত হন। প্রথম স্বামীর শাহাদাতের পর মহানবী (সা.) তাঁর জান্নাতি মর্যাদার সুসংবাদ দিয়ে সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতি নারী বিয়ে করতে চায়, সে যেন উম্মে আইমানকে বিয়ে করে।’ অতঃপর নবীজি (সা.)-এর স্নেহের পালকপুত্র হজরত জায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় এবং তাঁদের ঘর আলো করে জন্ম নেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবি উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)।
ইসলামের প্রভাতকালেই উম্মে আইমান (রা.) সত্যের দাওয়াত গ্রহণ করেন। মক্কার কাফেরদের অমানুষিক জুলুম সহ্য করেও, বয়সের ভার উপেক্ষা করে তিনি কেবল ইমানের আকুল তাগিদে পদব্রজে মরুভূমি পেরিয়ে মদিনায় হিজরত করেন। উহুদ ও খায়বারের রক্তঝরা প্রান্তরেও তিনি সাহসের সঙ্গে আহত মুজাহিদদের শুশ্রূষা ও তৃষ্ণার্তদের পানি পানের সুমহান দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর উম্মে আইমান (রা.) শোকে বিহ্বল হয়ে চোখের জলে বুক ভাসিয়েছিলেন। তাঁর এই সুগভীর ইমানি অনুভূতি ও দরদ দেখে খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত ওমর (রা.) আপ্লুত হয়ে যেতেন এবং প্রিয় নবীজি (সা.)-এর এই প্রবীণ জননীর সার্বিক দেখভাল করতেন।
‘দোয়া’ একটি আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ আহ্বান করা, সাহায্য প্রার্থনা করা বা সম্বোধন করা। আর ইসলামি পরিভাষায় দোয়া হলো—বান্দা কর্তৃক চরম বিনীত ও আকুলচিত্তে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে মহান রবের নিকট কল্যাণ কামনা ও সাহায্য প্রার্থনা করা।
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা। সকাল ১০টায় এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
দৈনিক টার্গেট 


























