খুলনার কয়রা উপজেলায় সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এক মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশী। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জিউইশ রিলিফ।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে চলমান উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কমিউনিটি মোবিলাইজার আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. সোহেল হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক কুমার ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাবের, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা ইস্তিয়াক আহমেদ এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস. এম. আকরাম হোসাইন।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততার কারণে কৃষি, মৎস্য ও অন্যান্য জীবিকাভিত্তিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ, বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সুন্দরবন শুধু দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করে। তাই সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পরিবেশ সচেতনতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে আরও কার্যকর প্রশিক্ষণ ও সহায়তার দাবি জানান।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবিকা উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও টেকসই উপকূলীয় অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব।

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 
























