দেশের মোটর পার্টস ও টায়ার-টিউব খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মোটর পার্টস অ্যান্ড টায়ার টিউব মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিটিটিএমএ)-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বাংলাবাজারের নর্থ ব্রুক হল রোডে অবস্থিত সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট, আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি এবং মোটর পার্টস ও টায়ার-টিউব খাতের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, সমস্যা এবং প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসাইন খাঁন। তিনি বলেন, দেশের পরিবহন খাত সচল রাখতে মোটর পার্টস ও টায়ার-টিউব ব্যবসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই খাতের সঙ্গে হাজার হাজার ব্যবসায়ী, কর্মচারী এবং তাদের পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও করসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যা নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মোঃ আমজাদ হোসাইন খাঁন বলেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাও ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। তিনি সমিতির সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং সদস্যদের তথ্যভাণ্ডার ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকৃত পণ্যের খরচ বেড়েছে, ফলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা এবং আমদানি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সংগঠনের কার্যকরী কমিটির নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটিগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি মোটর পার্টস ও টায়ার-টিউব খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যবসায়ীদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সালমা আক্তার লিজা 

























