বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ১১৩ বার পঠিত হয়েছে

বাজেট ২০২৬-২৭

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজেট বক্তব্যে তিনি এসব পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। বাজেটে ঘোষিত শুল্ক ও করসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ায় বাজারে বেশ কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর করের চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি নিকোটিনভিত্তিক কিছু পণ্যের ওপর উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ধূমপায়ীদের ব্যয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশবান্ধব যানবাহার ব্যবহারে উৎসাহ দিতে প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির ওপর করভারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ইঞ্জিনক্ষমতার আমদানি করা পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে এসব গাড়ির বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

দেশীয় কৃষি ও শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজুবাদামের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর কাজুবাদাম বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে।

একই সঙ্গে বিদেশি পাঙাশ মাছের ফিলে আমদানির ওপর নতুন সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এ উদ্যোগ স্থানীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।

এলপিজি খাতে আমদানি পর্যায়ে নতুন ভ্যাট আরোপের কারণে বিদেশি কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বাড়তে পারে। এছাড়া বিদেশ থেকে আনা প্রাকৃতিক মধু ও সুপারির ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে, যা আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়াবে।

বাজেটে আরও দেখা গেছে, কফি, কনফেকশনারি, প্রস্তুত খাদ্যপণ্যসহ বেশ কিছু বিদেশি খাদ্যসামগ্রীর ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এসব পণ্যের খুচরা বাজারে মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসাধনী পণ্যের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

নির্মাণ খাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রড উৎপাদনে ব্যবহৃত কিছু উপকরণের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল, খেলনা ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যেতে পারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব পরিবর্তনের ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের বাজারে মূল্য সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাজেটের শুল্ক কাঠামো একদিকে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে কিছু আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতে পারে।

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

প্রকাশ: ০৫:০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজেট বক্তব্যে তিনি এসব পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। বাজেটে ঘোষিত শুল্ক ও করসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ায় বাজারে বেশ কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর করের চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি নিকোটিনভিত্তিক কিছু পণ্যের ওপর উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ধূমপায়ীদের ব্যয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশবান্ধব যানবাহার ব্যবহারে উৎসাহ দিতে প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির ওপর করভারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ইঞ্জিনক্ষমতার আমদানি করা পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে এসব গাড়ির বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

দেশীয় কৃষি ও শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজুবাদামের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর কাজুবাদাম বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে।

একই সঙ্গে বিদেশি পাঙাশ মাছের ফিলে আমদানির ওপর নতুন সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এ উদ্যোগ স্থানীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।

এলপিজি খাতে আমদানি পর্যায়ে নতুন ভ্যাট আরোপের কারণে বিদেশি কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বাড়তে পারে। এছাড়া বিদেশ থেকে আনা প্রাকৃতিক মধু ও সুপারির ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে, যা আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়াবে।

বাজেটে আরও দেখা গেছে, কফি, কনফেকশনারি, প্রস্তুত খাদ্যপণ্যসহ বেশ কিছু বিদেশি খাদ্যসামগ্রীর ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এসব পণ্যের খুচরা বাজারে মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসাধনী পণ্যের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

নির্মাণ খাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রড উৎপাদনে ব্যবহৃত কিছু উপকরণের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল, খেলনা ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যেতে পারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব পরিবর্তনের ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের বাজারে মূল্য সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বাজেটের শুল্ক কাঠামো একদিকে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে কিছু আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতে পারে।