ঢাকা বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল ও অশ্রুসিক্ত স্মৃতিচারণ

বাবার স্মৃতিতে শাহ আলম খানের কান্না, অশ্রুসিক্ত চারপাশ

এক বুক চাপা কষ্ট, শূন্যতা আর অশ্রুসিক্ত নয়নে এক শোকাবহ পরিবেশে সম্পন্ন হলো ঢাকা বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও রুদ্রবাংলা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মোঃ শাহ আলম খানের শ্রদ্ধেয় পিতা মোঃ সুলতান হোসেন খানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

২০শে জুন ২০২৬, রোজ শনিবার বিকাল ০৩:৩০ ঘটিকায় রাজধানীর গুলিস্তানের ১, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অবস্থিত ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের কার্যালয়টি যেন এক জীবন্ত শোকের ঘরে পরিণত হয়েছিল। পরম প্রিয় অভিভাবককে হারানোর এই বেদনাময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের চোখেই ছিল অশ্রুর ধারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও  দৈনিক রুদ্রবাংলার সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে ও সুনিপুণভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি যতই এগোচ্ছিল, ক্লাবের ভেতরের বাতাস ততই ভারী হয়ে উঠছিল এক বুক ভাঙা কান্নায়।

স্মরণ সভার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি আসে যখন মরহুমের পরম শ্রদ্ধেয় সন্তান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম খান তাঁর পিতার স্মৃতিচারণ করতে ডায়াসে দাঁড়ান। নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, মাথার ওপরের সেই বটবৃক্ষ সমতুল্য পিতাকে চিরতরে হারানোর বেদনায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত অবরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি যখন তাঁর পিতার সততা, আদর আর সন্তানদের মানুষ করার পেছনের সীমাহীন কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন, তখন হলরুমে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। তাঁর চোখের জল আর বুক ফাটানো আর্তনাদ উপস্থিত কাউকেই স্থির থাকতে দেয়নি; সাংবাদিক থেকে শুরু করে আমন্ত্রিত অতিথি- প্রত্যেকের চোখেই তখন গড়িয়ে পড়ছিল পানি। সন্তানের এমন পিতৃশোকের দৃশ্য উপস্থিত সবার হৃদয়কে গভীরভাবে মথিত ও ক্ষতবিক্ষত করে।

পিতার স্মৃতি মনে করে শাহ আলম খান বলেন, “বাবা তো শুধু বাবা ছিলেন না, ছিলেন আমার পুরো পৃথিবীর আলো। আজ সেই আলো নিভে গেছে, আমি আজ নিঃস্ব।” তিনি উপস্থিত সবার কাছে হাত জোড় করে তাঁর পিতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

এরপর মরহুমের জীবন ও কর্মের ওপর অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় আলোকপাত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা জানান সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক ভূঁইয়া এবং আপ্যায়ন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। তাঁরা বলেন, পিতা হারানোর এই ক্ষত কখনো শুকাবার নয়, এই শূন্যতা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়।

উক্ত শোকাবহ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন ঢাকা ওয়াসার সাবেক কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ। এছাড়াও সহকর্মীর এই চরম দুর্দিনে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যাদের চোখেও ছিল শোকের ছায়া। উপস্থিত ছিলেনঃ মিজান বিন নুর (সহ-সভাপতি), মইনুদ্দিন সবুজ (সহকারী নির্বাচন কমিশনার), মোঃ লিয়াকত আলী আইয়ুব (অর্থ সম্পাদক), মোঃ আবু সাঈদ সাগর (প্রচার সম্পাদক), রবিউল ইসলাম সিদ্দিকী (ক্রীড়া সম্পাদক), আবুল খায়ের (আইন বিষয়ক সম্পাদক)।

এছাড়াও ঢাকা বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের অসংখ্য সাধারণ সদস্য, সাংবাদিক সহকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই শোকাতুর মুহূর্তে শামিল হন।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন গুলিস্তান পার্ক মসজিদের সম্মানিত ইমাম সাহেব। মোনাজাত শুরু হতেই পুরো ক্লাব জুড়ে এক কান্নার রোল পড়ে যায়। দুহাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে যখন মরহুম মোঃ সুলতান হোসেন খানের আত্মার চিরশান্তি এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করার আকুতি জানানো হচ্ছিল, তখন উপস্থিত সবার কান্নায় চারপাশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই সাথে শোকাহত পরিবারকে এই তীব্র কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

পরিশেষে, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে উপস্থিত সবার মাঝে তাবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে এই বেদনাদায়ক ও অশ্রুসিক্ত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

জনপ্রিয় টার্গেট

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল ও অশ্রুসিক্ত স্মৃতিচারণ

বাবার স্মৃতিতে শাহ আলম খানের কান্না, অশ্রুসিক্ত চারপাশ

প্রকাশ: ১২:৪৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

এক বুক চাপা কষ্ট, শূন্যতা আর অশ্রুসিক্ত নয়নে এক শোকাবহ পরিবেশে সম্পন্ন হলো ঢাকা বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও রুদ্রবাংলা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মোঃ শাহ আলম খানের শ্রদ্ধেয় পিতা মোঃ সুলতান হোসেন খানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

২০শে জুন ২০২৬, রোজ শনিবার বিকাল ০৩:৩০ ঘটিকায় রাজধানীর গুলিস্তানের ১, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অবস্থিত ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের কার্যালয়টি যেন এক জীবন্ত শোকের ঘরে পরিণত হয়েছিল। পরম প্রিয় অভিভাবককে হারানোর এই বেদনাময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের চোখেই ছিল অশ্রুর ধারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও  দৈনিক রুদ্রবাংলার সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে ও সুনিপুণভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি যতই এগোচ্ছিল, ক্লাবের ভেতরের বাতাস ততই ভারী হয়ে উঠছিল এক বুক ভাঙা কান্নায়।

স্মরণ সভার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি আসে যখন মরহুমের পরম শ্রদ্ধেয় সন্তান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম খান তাঁর পিতার স্মৃতিচারণ করতে ডায়াসে দাঁড়ান। নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, মাথার ওপরের সেই বটবৃক্ষ সমতুল্য পিতাকে চিরতরে হারানোর বেদনায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত অবরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি যখন তাঁর পিতার সততা, আদর আর সন্তানদের মানুষ করার পেছনের সীমাহীন কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন, তখন হলরুমে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। তাঁর চোখের জল আর বুক ফাটানো আর্তনাদ উপস্থিত কাউকেই স্থির থাকতে দেয়নি; সাংবাদিক থেকে শুরু করে আমন্ত্রিত অতিথি- প্রত্যেকের চোখেই তখন গড়িয়ে পড়ছিল পানি। সন্তানের এমন পিতৃশোকের দৃশ্য উপস্থিত সবার হৃদয়কে গভীরভাবে মথিত ও ক্ষতবিক্ষত করে।

পিতার স্মৃতি মনে করে শাহ আলম খান বলেন, “বাবা তো শুধু বাবা ছিলেন না, ছিলেন আমার পুরো পৃথিবীর আলো। আজ সেই আলো নিভে গেছে, আমি আজ নিঃস্ব।” তিনি উপস্থিত সবার কাছে হাত জোড় করে তাঁর পিতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

এরপর মরহুমের জীবন ও কর্মের ওপর অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় আলোকপাত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর সমবেদনা জানান সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক ভূঁইয়া এবং আপ্যায়ন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। তাঁরা বলেন, পিতা হারানোর এই ক্ষত কখনো শুকাবার নয়, এই শূন্যতা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়।

উক্ত শোকাবহ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন ঢাকা ওয়াসার সাবেক কর্মকর্তা খন্দকার ফিরোজ। এছাড়াও সহকর্মীর এই চরম দুর্দিনে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যাদের চোখেও ছিল শোকের ছায়া। উপস্থিত ছিলেনঃ মিজান বিন নুর (সহ-সভাপতি), মইনুদ্দিন সবুজ (সহকারী নির্বাচন কমিশনার), মোঃ লিয়াকত আলী আইয়ুব (অর্থ সম্পাদক), মোঃ আবু সাঈদ সাগর (প্রচার সম্পাদক), রবিউল ইসলাম সিদ্দিকী (ক্রীড়া সম্পাদক), আবুল খায়ের (আইন বিষয়ক সম্পাদক)।

এছাড়াও ঢাকা বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের অসংখ্য সাধারণ সদস্য, সাংবাদিক সহকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই শোকাতুর মুহূর্তে শামিল হন।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন গুলিস্তান পার্ক মসজিদের সম্মানিত ইমাম সাহেব। মোনাজাত শুরু হতেই পুরো ক্লাব জুড়ে এক কান্নার রোল পড়ে যায়। দুহাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে যখন মরহুম মোঃ সুলতান হোসেন খানের আত্মার চিরশান্তি এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করার আকুতি জানানো হচ্ছিল, তখন উপস্থিত সবার কান্নায় চারপাশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই সাথে শোকাহত পরিবারকে এই তীব্র কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

পরিশেষে, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে উপস্থিত সবার মাঝে তাবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে এই বেদনাদায়ক ও অশ্রুসিক্ত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।