ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের দাফন তার নিজ জন্মভূমিতে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই প্রভাবশালী নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ভোলাজুড়ে সৃষ্টি হয় শোকের আবহ।
গত সোমবার (১ জুন) রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক জটিলতা, বিশেষ করে পক্ষাঘাতসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
তার মৃত্যুর পর মরদেহ হেলিকপ্টারে করে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আনা হয়। সেখানে থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, যেখানে দুপুর ২টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় একটি জামে মসজিদের ইমাম। এ সময় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত হাজারো মানুষ প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন।
রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাজার আগে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা মরহুমের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—পুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও র্যাব—সমগ্র এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবস্থান নেয়।
জানাজায় রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক শ্রেণির মানুষ একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজার আগে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় নেতা ও আত্মীয়স্বজন বলেন, তোফায়েল আহমেদ শুধু একটি দলের নেতা ছিলেন না; তিনি পুরো ভোলার মানুষের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ভোলার উন্নয়ন ও মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
জানাজার পর মরদেহ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি কোড়ালিয়া এলাকায়। সেখানে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হন তার বাবা-মা ও স্ত্রীর কবরের পাশেই।
এদিকে জানাজাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরো সময়জুড়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
ভোলায় এই বিদায় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গভীরতা।
দৈনিক টার্গেট 























