বিজয়নগরে এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ইভটিজিংয়ে যুবকের কারাদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং করার অভিযোগে এক যুবককে আটক করে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার চানপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সকিনা আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত যুবককে এই দণ্ড দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চানপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এক ছাত্রীকে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ওই যুবক মেয়েটিকে বিরক্ত করত এবং তার চলাফেরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

ঘটনার দিন অভিযুক্ত যুবককে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে। পরে তাকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্তকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত বিচার ও শাস্তির কারণে অন্যদের জন্যও এটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সবসময় একটি নিরাপদ ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ চান। কোনো শিক্ষার্থী যেন হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সমাজে ইভটিজিং একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং তরুণদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইভটিজিংসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

বিজয়নগরে এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

ইভটিজিংয়ে যুবকের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৮:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং করার অভিযোগে এক যুবককে আটক করে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই যুবককে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার চানপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সকিনা আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত যুবককে এই দণ্ড দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চানপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এক ছাত্রীকে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ওই যুবক মেয়েটিকে বিরক্ত করত এবং তার চলাফেরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

ঘটনার দিন অভিযুক্ত যুবককে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে। পরে তাকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্তকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত বিচার ও শাস্তির কারণে অন্যদের জন্যও এটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সবসময় একটি নিরাপদ ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ চান। কোনো শিক্ষার্থী যেন হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সমাজে ইভটিজিং একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং তরুণদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইভটিজিংসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।