ঢাকার নবাবগঞ্জে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। গত মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) দিবাগত রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নবাবগঞ্জের শান্তিনগর এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মঙ্গল (৬০) এবং তার স্ত্রী লিপি বেগম (৪৫)।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে প্রধান আসামি মঙ্গল কৌশলে ওই শিশুকে তার নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে মঙ্গলের স্ত্রী লিপি বেগমের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শিশুটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা শেষে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।
ভয় ও লোকলজ্জার কারণে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে আবারও বিপত্তি ঘটে। ওই দিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে আসামি মঙ্গল পুনরায় শিশুটিকে তার বাড়িতে ডাকতে গেলে শিশুটি যেতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং গত ৫ ফেব্রুয়ারির বীভৎস ঘটনার কথা তার বাবাকে বিস্তারিত জানায়। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আসামি মঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই শিশুটিকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
আইনি প্রক্রিয়া ও অভিযান
ঘটনা জানার পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয় (মামলা নং-১৯)।
মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১০-এর কাছে একটি অধিযাচনপত্র প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে র্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। অবশেষে গোপন সংবাদ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএমপি ঢাকার বংশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা মঙ্গল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব-১০, সিপিএসসি লালবাগ ক্যাম্পের সদস্যরা।
র্যাবের বক্তব্য
র্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিঃ সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। মামলার পর থেকে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, র্যাব এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সতর্কতা: নারীর প্রতি সহিংসতা ও শিশু নির্যাতন রোধে আপনার চারপাশের যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য নিকটস্থ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানান।

জেসমিন আক্তার রোদেলা 

























