বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক পর্ন সাইটে কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে সিআইডির হাতে গ্রেফতার আলোচিত দম্পতি

বান্দরবানে পর্ন কনটেন্ট নির্মাতা দম্পতি গ্রেফতার

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৩৫ বার পঠিত হয়েছে

নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি

বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকার অভিযোগে আলোচিত এক বাংলাদেশি দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার সকালে বান্দরবানের একটি আবাসিক এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

তিনি জানান, ওই যুগল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশভিত্তিক একটি জনপ্রিয় প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েবসাইটে কনটেন্ট আপলোড করতেন। তাদের তৈরি ভিডিওর কারণে ওই প্ল্যাটফর্ম দ্রুত দর্শকসংখ্যায় শীর্ষস্থান অর্জন করে। “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বাংলাদেশ থেকেই এসব কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ করতেন,” বলেন জসীম উদ্দিন।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দম্পতির ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও অনলাইন লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ‘মডেল দম্পতি’ হিসেবে পরিচয় দিতেন তারা। অনলাইনভিত্তিক অনুসন্ধান প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে তারা অনলাইনে সক্রিয় হন এবং এক বছরের মধ্যেই শতাধিক ভিডিও প্রকাশ করে বিপুল অনুসারী পান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়, তারা একাধিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট প্রকাশ করতেন। পাশাপাশি টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম–এ নিজেদের কার্যক্রম প্রচার করতেন। তাদের নামে খোলা টেলিগ্রাম চ্যানেলে হাজারো সদস্য রয়েছে, যেখানে নতুন ভিডিওর লিংক ও আয়ের স্ক্রিনশট নিয়মিত শেয়ার করা হতো।

অভিযোগ আছে, তারা তরুণ–তরুণীদের ‘সহজ আয়ের সুযোগ’ দেখিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতেন। অনলাইনে প্রকাশিত কিছু পোস্টে দেখা গেছে “নতুন ক্রিয়েটর যোগ করুন, অর্থ উপার্জনের সুযোগ পান” ধরনের বার্তা ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি বাংলাদেশে বসে আন্তর্জাতিক পর্নো কনটেন্ট তৈরি ও বিপণনের এক নতুন ধারা উন্মোচন করেছে, যা আইনত সম্পূর্ণ অপরাধ।

বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, পর্নো কনটেন্ট উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রচার-এ তিনটি কর্মকাণ্ডই ফৌজদারি অপরাধ। দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক দম্পতিকে ঢাকায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের সহযোগী ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

দম্পতির মধ্যে মেয়েটির নাম নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক পর্ন সাইটে কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে সিআইডির হাতে গ্রেফতার আলোচিত দম্পতি

বান্দরবানে পর্ন কনটেন্ট নির্মাতা দম্পতি গ্রেফতার

প্রকাশ: ০১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকার অভিযোগে আলোচিত এক বাংলাদেশি দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার সকালে বান্দরবানের একটি আবাসিক এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।

তিনি জানান, ওই যুগল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশভিত্তিক একটি জনপ্রিয় প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েবসাইটে কনটেন্ট আপলোড করতেন। তাদের তৈরি ভিডিওর কারণে ওই প্ল্যাটফর্ম দ্রুত দর্শকসংখ্যায় শীর্ষস্থান অর্জন করে। “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বাংলাদেশ থেকেই এসব কনটেন্ট তৈরি ও প্রকাশ করতেন,” বলেন জসীম উদ্দিন।

সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দম্পতির ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও অনলাইন লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ‘মডেল দম্পতি’ হিসেবে পরিচয় দিতেন তারা। অনলাইনভিত্তিক অনুসন্ধান প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে তারা অনলাইনে সক্রিয় হন এবং এক বছরের মধ্যেই শতাধিক ভিডিও প্রকাশ করে বিপুল অনুসারী পান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়, তারা একাধিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট প্রকাশ করতেন। পাশাপাশি টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম–এ নিজেদের কার্যক্রম প্রচার করতেন। তাদের নামে খোলা টেলিগ্রাম চ্যানেলে হাজারো সদস্য রয়েছে, যেখানে নতুন ভিডিওর লিংক ও আয়ের স্ক্রিনশট নিয়মিত শেয়ার করা হতো।

অভিযোগ আছে, তারা তরুণ–তরুণীদের ‘সহজ আয়ের সুযোগ’ দেখিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতেন। অনলাইনে প্রকাশিত কিছু পোস্টে দেখা গেছে “নতুন ক্রিয়েটর যোগ করুন, অর্থ উপার্জনের সুযোগ পান” ধরনের বার্তা ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি বাংলাদেশে বসে আন্তর্জাতিক পর্নো কনটেন্ট তৈরি ও বিপণনের এক নতুন ধারা উন্মোচন করেছে, যা আইনত সম্পূর্ণ অপরাধ।

বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, পর্নো কনটেন্ট উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রচার-এ তিনটি কর্মকাণ্ডই ফৌজদারি অপরাধ। দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক দম্পতিকে ঢাকায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের সহযোগী ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

দম্পতির মধ্যে মেয়েটির নাম নাদিয়া আক্তার বৃষ্টি বলে জানা গেছে।