ত্বক সুরক্ষায় ম্যাগনেশিয়াম কতটা জরুরি, যেভাবে ত্বকে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেবেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

ম্যাগনেশিয়ামকে বলা হয় শরীরের ‘মাস্টার মিনারেল’। ত্বক কোষের পুনর্গঠনসহ বাহ্যিক বিভিন্ন ক্ষতি থেকে ত্বক সুরক্ষায় এটি কাজ করে। নিচে এর মূল উপকারিতাগুলো আলোচনা করা হলো–

ম্যাগনেশিয়াম ত্বকের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে দারুণ কার্যকরী। এটি শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কর্টিসলের মাত্রা ঠিক থাকলে ত্বকে সিবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ব্রণের সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন তৈরি কমে যায়। ফলে চামড়া ঝুলে পড়ে এবং বলিরেখা দেখা দেয়। ম্যাগনেশিয়াম কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে ত্বক টানটান ও তরুণ রাখে।

আমাদের ত্বকের ওপরের স্তরে একটি লিপিড ব্যারিয়ার থাকে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ধুলাবালু-জীবাণু থেকে ত্বককে রক্ষায় সহায়ক। ম্যাগনেশিয়াম ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে, যা এই স্কিন ব্যারিয়ারকে মজবুত করাসহ ত্বক শুষ্ক হতে দেয় না।

যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল কিংবা যাঁরা একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ত্বকের লালচে ভাব এবং চুলকানি কমাতে ম্যাগনেশিয়াম জাদুর মতো কাজ করে।

এটি কোষের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকের মৃত কোষ দ্রুত ঝরে পড়ে এবং ভেতর থেকে একটি সুস্থ, উজ্জ্বল আভা প্রকাশ পায়।

ম্যাগনেশিয়াম শুধু খাবারের মাধ্যমেই নয়, ত্বকের ওপর সরাসরি বা টপিক্যাল উপায়ে ব্যবহার করলেও সুফল পাওয়া যায়। জেনে নিন কিছু সহজ উপায়–

এটি আসলে কোনো তেল নয়, তা মূলত ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইডের একটি ঘনীভূত জলীয় দ্রবণ, যা দেখতে তেলের মতো লাগে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পা, চাইলে পুরো শরীরের ত্বকে এটি স্প্রে করে হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন। এটি সরাসরি ত্বকের মাধ্যমে রক্তে শোষিত হয়। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে ব্যবহারের পর ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে পারলে ভালো।

এপসম লবণ হলো মূলত ম্যাগনেশিয়াম সালফেট। ক্লান্তিকর একটি দিন শেষে ত্বকের যত্ন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য এটি চমৎকার। বাথটাব বা বালতির হালকা গরম পানিতে ১-২ কাপ এপসম লবণ মিশিয়ে নিন। এবার সেই পানিতে ১৫-২০ মিনিট শরীর ডুবিয়ে রাখুন বা গোসল করুন। এটি পুরো শরীরের ত্বককে ডিটক্সিফাই করে, পেশির ক্লান্তি দূর করে এবং ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে।

আজকাল বাজারে ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত বিভিন্ন ময়শ্চারাইজার, সেরাম, ফেস ক্রিম এবং বডি লোশন পাওয়া যায়। আপনার দৈনিক ত্বকচর্চার রুটিনে ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত একটি ভালো মানের ময়শ্চারাইজার বা সেরাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দীর্ঘ সময় সাহায্য করবে।

ঘরোয়া উপায়েও আপনি ম্যাগনেশিয়াম ফেস প্যাক তৈরি করতে পারেন। ১ চা-চামচ এপসম লবণ ভালোভাবে গুঁড়া করে নিন। এর সঙ্গে এক চা-চামচ মধু এবং সামান্য টক দই মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে মরা কোষ দূর করবে।

ম্যাগনেশিয়াম ত্বকের জন্য নিরাপদ হলেও সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তাই মুখে সরাসরি ম্যাগনেশিয়াম অয়েল বা নতুন কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই কবজিতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করে নিন। আপনার কোনো গুরুতর চর্মরোগ থাকলে ব্যবহারের আগে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ব্যস্ততার কারণে বারান্দায় রাখা গাছগুলোয় পানি দেওয়া ছাড়া আর কোনো যত্ন নিতে পারেন না। গাছের যত্নে সব সময় বাজার থেকেই সার কিনতে হবে বিষয়টি এমনও নয়। বরং প্রতিদিন রান্নাঘরে যে জিনিসগুলো আমরা অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেই, সেগুলোর অনেক কিছুই হতে পারে আপনার গাছের যত্নে দারুণ উপকারী।

বিদেশে ঘুরতে গিয়ে পর্যটকেরা কীভাবে নিজেদের প্রকাশ করেন, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্যুর অপারেটরদের কৌতূহলের শেষ নেই। কার ভদ্রতা সবচেয়ে প্রশংসনীয়, কে সবচেয়ে বেশি বকশিশ দেন, কারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন আর কারা শুধু স্থানীয় খাবারের স্বাদে বিভোর থাকেন?

কারও সঙ্গে দেখা হলেই আমরা সহজভাবেই জিজ্ঞেস করি, ‘কেমন আছেন?’ জবাবে অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে আসে এক পরিচিত শব্দ, ‘ভালো আছি।’ কিন্তু এই ‘ভালো থাকা’র কথাটির আড়ালে প্রায়ই চাপা পড়ে থাকে অলক্ষিত কোনো এক সত্যি। সমাজের রীতিনীতির কারণে অসুস্থ বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও আমরা সাধারণত বলতে অভ্যস্ত…

জনপ্রিয় টার্গেট

বাগেরহাটে মা, ছেলে ও নানি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩, পরকিয়ার কারণে হত্যা দাবি পুলিশের

ত্বক সুরক্ষায় ম্যাগনেশিয়াম কতটা জরুরি, যেভাবে ত্বকে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেবেন

প্রকাশ: ০৯:০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যাগনেশিয়ামকে বলা হয় শরীরের ‘মাস্টার মিনারেল’। ত্বক কোষের পুনর্গঠনসহ বাহ্যিক বিভিন্ন ক্ষতি থেকে ত্বক সুরক্ষায় এটি কাজ করে। নিচে এর মূল উপকারিতাগুলো আলোচনা করা হলো–

ম্যাগনেশিয়াম ত্বকের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে দারুণ কার্যকরী। এটি শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কর্টিসলের মাত্রা ঠিক থাকলে ত্বকে সিবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ব্রণের সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেন তৈরি কমে যায়। ফলে চামড়া ঝুলে পড়ে এবং বলিরেখা দেখা দেয়। ম্যাগনেশিয়াম কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে ত্বক টানটান ও তরুণ রাখে।

আমাদের ত্বকের ওপরের স্তরে একটি লিপিড ব্যারিয়ার থাকে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ধুলাবালু-জীবাণু থেকে ত্বককে রক্ষায় সহায়ক। ম্যাগনেশিয়াম ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে, যা এই স্কিন ব্যারিয়ারকে মজবুত করাসহ ত্বক শুষ্ক হতে দেয় না।

যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল কিংবা যাঁরা একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ত্বকের লালচে ভাব এবং চুলকানি কমাতে ম্যাগনেশিয়াম জাদুর মতো কাজ করে।

এটি কোষের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকের মৃত কোষ দ্রুত ঝরে পড়ে এবং ভেতর থেকে একটি সুস্থ, উজ্জ্বল আভা প্রকাশ পায়।

ম্যাগনেশিয়াম শুধু খাবারের মাধ্যমেই নয়, ত্বকের ওপর সরাসরি বা টপিক্যাল উপায়ে ব্যবহার করলেও সুফল পাওয়া যায়। জেনে নিন কিছু সহজ উপায়–

এটি আসলে কোনো তেল নয়, তা মূলত ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইডের একটি ঘনীভূত জলীয় দ্রবণ, যা দেখতে তেলের মতো লাগে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পা, চাইলে পুরো শরীরের ত্বকে এটি স্প্রে করে হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন। এটি সরাসরি ত্বকের মাধ্যমে রক্তে শোষিত হয়। তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে ব্যবহারের পর ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে পারলে ভালো।

এপসম লবণ হলো মূলত ম্যাগনেশিয়াম সালফেট। ক্লান্তিকর একটি দিন শেষে ত্বকের যত্ন ও মানসিক প্রশান্তির জন্য এটি চমৎকার। বাথটাব বা বালতির হালকা গরম পানিতে ১-২ কাপ এপসম লবণ মিশিয়ে নিন। এবার সেই পানিতে ১৫-২০ মিনিট শরীর ডুবিয়ে রাখুন বা গোসল করুন। এটি পুরো শরীরের ত্বককে ডিটক্সিফাই করে, পেশির ক্লান্তি দূর করে এবং ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে।

আজকাল বাজারে ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত বিভিন্ন ময়শ্চারাইজার, সেরাম, ফেস ক্রিম এবং বডি লোশন পাওয়া যায়। আপনার দৈনিক ত্বকচর্চার রুটিনে ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত একটি ভালো মানের ময়শ্চারাইজার বা সেরাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দীর্ঘ সময় সাহায্য করবে।

ঘরোয়া উপায়েও আপনি ম্যাগনেশিয়াম ফেস প্যাক তৈরি করতে পারেন। ১ চা-চামচ এপসম লবণ ভালোভাবে গুঁড়া করে নিন। এর সঙ্গে এক চা-চামচ মধু এবং সামান্য টক দই মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে মরা কোষ দূর করবে।

ম্যাগনেশিয়াম ত্বকের জন্য নিরাপদ হলেও সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তাই মুখে সরাসরি ম্যাগনেশিয়াম অয়েল বা নতুন কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই কবজিতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করে নিন। আপনার কোনো গুরুতর চর্মরোগ থাকলে ব্যবহারের আগে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ব্যস্ততার কারণে বারান্দায় রাখা গাছগুলোয় পানি দেওয়া ছাড়া আর কোনো যত্ন নিতে পারেন না। গাছের যত্নে সব সময় বাজার থেকেই সার কিনতে হবে বিষয়টি এমনও নয়। বরং প্রতিদিন রান্নাঘরে যে জিনিসগুলো আমরা অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দেই, সেগুলোর অনেক কিছুই হতে পারে আপনার গাছের যত্নে দারুণ উপকারী।

বিদেশে ঘুরতে গিয়ে পর্যটকেরা কীভাবে নিজেদের প্রকাশ করেন, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্যুর অপারেটরদের কৌতূহলের শেষ নেই। কার ভদ্রতা সবচেয়ে প্রশংসনীয়, কে সবচেয়ে বেশি বকশিশ দেন, কারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন আর কারা শুধু স্থানীয় খাবারের স্বাদে বিভোর থাকেন?

কারও সঙ্গে দেখা হলেই আমরা সহজভাবেই জিজ্ঞেস করি, ‘কেমন আছেন?’ জবাবে অন্য প্রান্ত থেকে ভেসে আসে এক পরিচিত শব্দ, ‘ভালো আছি।’ কিন্তু এই ‘ভালো থাকা’র কথাটির আড়ালে প্রায়ই চাপা পড়ে থাকে অলক্ষিত কোনো এক সত্যি। সমাজের রীতিনীতির কারণে অসুস্থ বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও আমরা সাধারণত বলতে অভ্যস্ত…