যে জয় থেকে পাকিস্তানের পতন শুরু হয়েছিল

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

ইউসুফের দাবি, ওই ম্যাচ জয়ের পর থেকেই দলের ভেতরে আত্মতুষ্টি, অহমিকা এবং অধিনায়কত্বের লড়াই বাড়তে থাকে; যার প্রভাব এখনো পাকিস্তান ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে।

দুবাইয়ে হওয়া ম্যাচটিতে ভারতের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য কোনো উইকেট না হারিয়েই টপকে যায় পাকিস্তান। বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আসে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রথম জয়। জয়টি পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি করলেও প্রায় পাঁচ বছর পর ইউসুফ দেখছেন ভিন্ন চিত্র।

সামা টিভিকে ইউসুফ বলেন, ‘২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে যে ম্যাচটি আমরা জিতেছিলাম, সেটিই আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। কারণ ওই জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবতে শুরু করেছিল, তারা বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছে। এরপর তাদের বুঝতে পারেনি, পরবর্তী সময়ে কী করতে হবে।’

ইউসুফের মতে, সাফল্যের পর বিনয় হারানোর ফল ভোগ করছে পাকিস্তান, ‘আপনি যখন ভালো করছেন, তখন আপনার বিনয়ী থাকা উচিত। কিন্তু যদি আপনি গলা উঁচু করে চলেন এবং অসম্মানজনক আচরণ করেন, তাহলে সমস্যা আসবেই। পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন অনেক সমস্যাই এসেছে।’

শুধু আত্মতুষ্টিই নয়, ওই সময় দলটির ভেতরে অধিনায়কত্বের প্রতিযোগিতাও বড় সমস্যা তৈরি করেছিল বলে মনে করেন ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘দলের সবাই পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হতে চাইছিল। এর যে পরিণতি হয়েছে, তার ক্ষত এখনো পাকিস্তান ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে।’

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ হতাশ ইউসুফ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এশিয়া কাপ—বিভিন্ন বড় মঞ্চে দলের ব্যর্থতা তুলে ধরে খেলোয়াড়দের ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানারেন তিনি।

ইউসুফ বলেন, ‘ভয়াবহ ক্রিকেট খেলেছে দল। পিসিবি পুরো সময় আপনাদের সমর্থন দিয়ে গেছে। পাকিস্তান দলকে সহায়তা করতে অনেক কোচ এসেছেন-গেছেন, অনেক কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড়ই দাঁড়িয়ে দায়িত্ব নেওয়ার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি।’

ইউসুফের বক্তব্যে তাই ২০২১ সালের ভারতের বিপক্ষে জয়টি শুধু একটি ঐতিহাসিক সাফল্য নয়; বরং সেই জয়ের পর তৈরি হওয়া মানসিকতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেই তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান সংকটের অন্যতম সূত্র হিসেবে দেখছেন।

আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির। তাতেই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে নতুন করে ট্রফি নাটকের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও মারনাস লাবুশেনের ওপর আস্থা হারায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন এই ব্যাটার। যদিও ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।

জনপ্রিয় টার্গেট

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি স্থগিত

যে জয় থেকে পাকিস্তানের পতন শুরু হয়েছিল

প্রকাশ: ০১:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউসুফের দাবি, ওই ম্যাচ জয়ের পর থেকেই দলের ভেতরে আত্মতুষ্টি, অহমিকা এবং অধিনায়কত্বের লড়াই বাড়তে থাকে; যার প্রভাব এখনো পাকিস্তান ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে।

দুবাইয়ে হওয়া ম্যাচটিতে ভারতের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য কোনো উইকেট না হারিয়েই টপকে যায় পাকিস্তান। বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আসে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রথম জয়। জয়টি পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি করলেও প্রায় পাঁচ বছর পর ইউসুফ দেখছেন ভিন্ন চিত্র।

সামা টিভিকে ইউসুফ বলেন, ‘২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে যে ম্যাচটি আমরা জিতেছিলাম, সেটিই আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। কারণ ওই জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবতে শুরু করেছিল, তারা বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছে। এরপর তাদের বুঝতে পারেনি, পরবর্তী সময়ে কী করতে হবে।’

ইউসুফের মতে, সাফল্যের পর বিনয় হারানোর ফল ভোগ করছে পাকিস্তান, ‘আপনি যখন ভালো করছেন, তখন আপনার বিনয়ী থাকা উচিত। কিন্তু যদি আপনি গলা উঁচু করে চলেন এবং অসম্মানজনক আচরণ করেন, তাহলে সমস্যা আসবেই। পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন অনেক সমস্যাই এসেছে।’

শুধু আত্মতুষ্টিই নয়, ওই সময় দলটির ভেতরে অধিনায়কত্বের প্রতিযোগিতাও বড় সমস্যা তৈরি করেছিল বলে মনে করেন ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘দলের সবাই পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হতে চাইছিল। এর যে পরিণতি হয়েছে, তার ক্ষত এখনো পাকিস্তান ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে।’

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ হতাশ ইউসুফ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এশিয়া কাপ—বিভিন্ন বড় মঞ্চে দলের ব্যর্থতা তুলে ধরে খেলোয়াড়দের ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানারেন তিনি।

ইউসুফ বলেন, ‘ভয়াবহ ক্রিকেট খেলেছে দল। পিসিবি পুরো সময় আপনাদের সমর্থন দিয়ে গেছে। পাকিস্তান দলকে সহায়তা করতে অনেক কোচ এসেছেন-গেছেন, অনেক কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড়ই দাঁড়িয়ে দায়িত্ব নেওয়ার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি।’

ইউসুফের বক্তব্যে তাই ২০২১ সালের ভারতের বিপক্ষে জয়টি শুধু একটি ঐতিহাসিক সাফল্য নয়; বরং সেই জয়ের পর তৈরি হওয়া মানসিকতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেই তিনি পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান সংকটের অন্যতম সূত্র হিসেবে দেখছেন।

আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির। তাতেই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে নতুন করে ট্রফি নাটকের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও মারনাস লাবুশেনের ওপর আস্থা হারায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ঘোষিত টেস্ট দলে জায়গা ধরে রেখেছেন এই ব্যাটার। যদিও ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।