বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অশালীন ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে নৈতিক অবক্ষয়ের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ব্যক্তির পরিবারকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, এটি সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বিচার না চাইলেও এ ধরনের নোংরামির বিচার হওয়া উচিত।
তাঁর পরিবারের সম্মান আমাদের সবার কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করার দাবি তোলেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি অতীতের কিছু বক্তব্য তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবতা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক সমঝোতার যে ইঙ্গিত আগে দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও কার্যকর আছে কি না এ বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়েও তিনি সরব হন। অতীতে সংঘটিত গুম, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনার ন্যায়বিচার না হলে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তিনি বিশেষভাবে কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে এসে কৃষকদের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তাঁর মতে, উৎপাদন পর্যায়ে কৃষক যে মূল্য পাচ্ছেন, বাজারে তার কয়েকগুণ বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, যার বড় অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। তিনি কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও তিনি স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকার সাহসী পদক্ষেপ নিলে জনগণের ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিদেশি চাপের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হওয়া উচিত নয়।
সব মিলিয়ে তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক শালীনতা রক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষকের ন্যায্য অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এই চারটি বিষয়ই বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 
























