সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমান সময়ে এনসিপির নেতাকর্মীরাও একই ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা সরকার কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের পথে এগোতে আগ্রহী নয় এবং নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের উত্থানও তারা দেখতে চায় না। এ কারণেই বিভিন্ন স্থানে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হামলার মতো ঘটনা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন।
আলোচনার সময় তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো স্থান নেই।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি সংঘাত কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি জানান, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে গোলাপগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহরের কয়েকটি গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিরাপত্তা জোরদার করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক টার্গেট 























