হ্যালোইন উৎসবে কুমড়ার পাই, স্য়ুপ ও ভৌতিক সাজে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া হয়। আর বাংলার ভূত চতুর্দশীতে পরিচিত রীতি চৌদ্দ শাক ও চৌদ্দ প্রদীপ। লোকবিশ্বাসে মানুষের শরীরের চৌদ্দটি জায়গায় নাড়ির অবস্থান, অর্থাৎ মানুষের প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব করা যায় এই জায়গাগুলোতে। তাই ১৪ পদের শাক খাওয়াকে শরীর ও মনের শুদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। শাস্ত্রীয় চৌদ্দটি শাক হলো ওলশাক, কেঁউশাক, বেতোশাক, কালকাসুন্দাশাক, নিমপাতা, সরিষাশাক, শালিঞ্চাশাক, জয়ন্তীপাতা, গুলঞ্চশাক, পলতাশাক, ঘেঁটু বা ভাঁটপাতা, হিঞ্চেশাক, শুষনিশাক এবং শেলুশাক। তবে অঞ্চল, পরিবার ও প্রাপ্যতার ওপর উপকরণ বদলে যায়। এককথায় স্থানীয়ভাবে যে চৌদ্দ ধরনের শাক পাওয়া যায়, সেগুলো দিয়েই তৈরি হয় দিনের বিশেষ পদ। অনেক পরিবারে আবার বাজারে পাওয়া শাকের সঙ্গে বাড়ির বাগানের শাকও যোগ করা হয়। শহরে সবাই হয়তো চৌদ্দ রকম শাক সংগ্রহ করেন না, কিন্তু এখনো বহু পরিবার প্রতীকীভাবে কয়েক ধরনের শাক রান্না করেন এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালান।
প্রথমে শাকগুলো ভালোভাবে বেছে ধুয়ে নিতে হয়। এরপর শাক কুচি করে কেটে কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে তাতে শুকনো মরিচ ও সামান্য পাঁচফোড়ন দেওয়া হয়। ফোড়নের গন্ধ বের হলে শাক দিয়ে নেড়ে সামান্য লবণ দিয়ে অল্প আঁচে রান্না করা হয়।
ভূত চতুর্দশীর খাবার হিসেবে বাঙালি বাড়িতে ভোজে থাকে ভাত, ডাল, শাক এবং নানা নিরামিষ পদ। কোথাও তেতো দিয়ে খাবার শুরুর রীতি রয়েছে, কোথাও আবার মাছ-মাংস বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার করা হয়।
ভূত চতুর্দশীতে চৌদ্দ শাক আর চৌদ্দ প্রদীপের ঐতিহ্য এখনো বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে। কারণ, ভূত চতুর্দশী শুধু অশরীরী আত্মার উৎসব নয়; এটি ঋতু, বিশ্বাস এবং খাবারের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এক সংস্কৃতিও। এ ছাড়া চৌদ্দ শাক খাওয়ার রয়েছে স্বাস্থ্যগত ও ঋতুগত কারণ।

দৈনিক টার্গেট 



























