স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়াছ উদ্দিন মিয়ার উদ্যোগে ‘বাউফল সাধারণ পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বাউফল সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুল সাত্তার। পরে এ দায়িত্ব পালন করেন কেশবপুর কলেজের সাবেক অধ্যাপক এ কে এম হুমায়ুন কবির।
প্রতিষ্ঠার পর পাঠাগারটি ছিল বইপ্রেমী ও জ্ঞানপিপাসু মানুষের মিলনস্থল। সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হতো। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাঠাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকত। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসতেন।
একপর্যায়ে পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে পাঠাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই ভবনে বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রম চলছে। পরে নতুন ভবন নির্মাণ করে পাঠাগারটি পুনরায় চালুর দাবি ওঠে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের উদ্যোগে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। প্রায় দুই বছর আগে ভবনটির উদ্বোধন করেন বাউফলের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।
তবে উদ্বোধনের পরও পাঠাগারটি চালু না হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, পাঠাগারের ভেতরে বই ও আসবাবপত্র পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের সামনের অংশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে অটোরিকশা। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের বেলায় ছাদে মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়।
স্থানীয়দের মতে, একটি পাঠাগার এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণদের বই পড়ার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করে। পাঠাগারটি চালু হলে পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জন, সংবাদপত্র ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ পেতেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তরুণদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্র তৈরি হতো।
বাউফল সাধারণ পাঠাগারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পাঠাগারটি চালু হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ বই পড়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও এটি চালু না হওয়ায় বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাঠাগারটি চালু করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করুক।’
বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘পাঠাগার জ্ঞান অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি বন্ধ পড়ে আছে। পাঠাগারের সামনে অটোরিকশা রাখা হয়। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে দুর্গন্ধে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় ছাদে উঠে মাদকসেবীদের মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এই সপ্তাহের মধ্যে পাঠাগারটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত পাঠাগারটি চালুর পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বই ও আসবাবপত্র সংরক্ষণ, পরিচালনা কমিটি গঠন, সামনের জায়গা অটোরিকশার দখলমুক্ত করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দৈনিক টার্গেট 























