‘দেশের প্রায় ৬১ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পান না’

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সুপেয় পানি জীবনধারণের মৌলিক উপাদান হলেও দেশের উপকূলীয়, হাওর, পার্বত্য ও নিম্নাঞ্চলের বসতিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির সুযোগ সমান নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও পানির সুযোগে বৈষম্য রয়েছে।’

ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘দেশের মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পান। অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগবঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে পানিতে ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতিও রয়েছে।’

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাইয়াজউদ্দিন বলেন, ‘দেশে চারটি ওয়াসা রয়েছে, অন্যদিকে পৌরসভা পাঁচশতাধিক। এই কাঠামো দেশের মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে কতটা সক্ষম, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। জীবনধারণের মৌলিক উপাদান পানির ওপর ভ্যাট আরোপ কতটা যৌক্তিক, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।’

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক তানভীর ইসলাম বলেন, ‘ওয়াসার মাধ্যমে পানির দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সরকারের সেবার আওতার বাইরে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পানি সংগ্রহের উৎস অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ। পানি সরবরাহ ও শুদ্ধিকরণে সরকারকে দায় নিতে হবে।’

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন গেট ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো ও অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর ড. জাকিয়া আফরিন বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ফ্লিন্ট শহরের পানি সংকটের উদাহরণ তুলে ধরেন। সেখানে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণ সংগঠিত হয়ে ভূমিকা রেখেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান ও আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক আরিফ খান বলেন, ‘সুপেয় পানি জনগণের সম্পদ। পানির ওপর জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায় রয়েছে। এ দায় বাস্তবায়নে সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর ও উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাশেদ রাহম। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিডিং অ্যাসোসিয়েট এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেলে ভর্তি-ইচ্ছুকদের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। হাতে আর বেশি সময় নেই। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে অনেকের সামনে খুলে যাবে কাঙ্ক্ষিত মেডিকেল কলেজের দরজা। এই অল্প সময়ে শুধু পড়লেই হবে না, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, কৌশলী প্রস্তুতি ও নিয়মিত অনুশীলন।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে আরও দু-তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় এবারের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

জনপ্রিয় টার্গেট

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ছাত্রশক্তির প্রার্থী প্রস্তুত করতে বললেন নাসীরুদ্দীন

‘দেশের প্রায় ৬১ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পান না’

প্রকাশ: ০৯:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সুপেয় পানি জীবনধারণের মৌলিক উপাদান হলেও দেশের উপকূলীয়, হাওর, পার্বত্য ও নিম্নাঞ্চলের বসতিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির সুযোগ সমান নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও পানির সুযোগে বৈষম্য রয়েছে।’

ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘দেশের মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পান। অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগবঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে পানিতে ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতিও রয়েছে।’

দেশের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাইয়াজউদ্দিন বলেন, ‘দেশে চারটি ওয়াসা রয়েছে, অন্যদিকে পৌরসভা পাঁচশতাধিক। এই কাঠামো দেশের মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে কতটা সক্ষম, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। জীবনধারণের মৌলিক উপাদান পানির ওপর ভ্যাট আরোপ কতটা যৌক্তিক, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।’

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক তানভীর ইসলাম বলেন, ‘ওয়াসার মাধ্যমে পানির দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সরকারের সেবার আওতার বাইরে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পানি সংগ্রহের উৎস অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ। পানি সরবরাহ ও শুদ্ধিকরণে সরকারকে দায় নিতে হবে।’

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন গেট ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো ও অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর ড. জাকিয়া আফরিন বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ফ্লিন্ট শহরের পানি সংকটের উদাহরণ তুলে ধরেন। সেখানে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণ সংগঠিত হয়ে ভূমিকা রেখেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান ও আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক আরিফ খান বলেন, ‘সুপেয় পানি জনগণের সম্পদ। পানির ওপর জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায় রয়েছে। এ দায় বাস্তবায়নে সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর ও উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাশেদ রাহম। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিডিং অ্যাসোসিয়েট এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেলে ভর্তি-ইচ্ছুকদের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। হাতে আর বেশি সময় নেই। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে অনেকের সামনে খুলে যাবে কাঙ্ক্ষিত মেডিকেল কলেজের দরজা। এই অল্প সময়ে শুধু পড়লেই হবে না, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, কৌশলী প্রস্তুতি ও নিয়মিত অনুশীলন।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে আরও দু-তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় এবারের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।