সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া অন্য আসামিরা হলেন রকি হোসেন পিচ্চি, মনির হোসেন ইমন ও আবুল হাসান ওরফে কালা হাসান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় (১০(৯)২৬) ওয়াকিল হোসেন বগাসহ ১২ জন এজাহারভুক্ত আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। সোমবার শুনানি শেষে আদালত বগাসহ চারজনের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বাকি আটজনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
রিমান্ড নামঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন রবিন, সাকিব হাসান, দেলোয়ার হোসেন, শাকিল, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রহমান, সোহেল ও আবুল কাসেম।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় বগাকে প্রধান আসামি করা হয়। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালালে তাঁর অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় পরে পুলিশ বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা করে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় আসা ওয়াকিল হোসেন বগা দীর্ঘদিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর হত্যা, হুমকি, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা একটি মামলায় তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশের পিসিপিআর (পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য) অনুযায়ী, বগার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ২৩টি মামলা রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুনে সরকারি জায়গা দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় আলোচনায় আসেন বগা। ওই ঘটনার পর গত ৮ জুন তাঁকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরেরা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। এই গ্যাং পরিচালনায় বগার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। কিশোর হৃদয় হত্যা মামলায় পুলিশ বগাকে মূল পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ভবনে বগার অবস্থানের তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল ভবনটি ঘিরে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের ভেতরে থাকা মেয়র শাহাদাত হোসেনের হস্তক্ষেপের পর বগাকে গ্রেপ্তার না করেই পুলিশ ফিরে যায়। এ ঘটনার পর বগাকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনাকারী খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিমের সমালোচনা করেন মেয়র। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

দৈনিক টার্গেট 

























