গাইবান্ধায় তিস্তা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের তাণ্ডবে বিলীন ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিতে আরও ৬টি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন না থাকায় খোলা আকাশের নিচে চলছে আটটি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। কোথাও আবার একটি ছাপড়ার নিচে দুই-চারজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমেছে। ফলে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টেবিল ও শিক্ষার্থীদের কোলাহল। এখন সেখানে শুধু পানি আর পানি। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় উপস্থিতির হারও কমেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি কিছুটা বেশি। ভোরের পাখিসহ আশপাশের এলাকায় দিনের পর দিন তীব্র ভাঙনে নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি আর মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। মাদ্রাসা-মসজিদও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়ি, কেউ সড়কের পাশে। আবার কেউ নদীর কূলেই অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর কয়েক দফা ভাঙনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বসতভিটাসহ অসংখ্য আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈশা মনি বলে, ‘গত বছরও আমরা বিদ্যালয়ে সুন্দরভাবে পড়াশোনা করেছি। তখন পড়াশোনায় আমাদের ভালো মনোযোগ ছিল। কিন্তু এ বছর হঠাৎ নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন আমাদের পড়াশোনা করতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’

আরেক শিক্ষার্থী নয়ন মিয়া বলে, ‘স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনায় আর মনোযোগ দিতে পারছি না। চোখের সামনে এভাবে সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেলে আমরা যাব কোথায়?’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের একটি জনপদের নাম ভোরের পাখি। একসময় চর এলাকার এই জনপদে শত শত পরিবার বাস করত। এ বছর কয়েক দফা ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই জনপদ। তিস্তার ভাঙনে এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দশটিরও বেশি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। হারিয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। সর্বস্ব হারিয়ে নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।

গেল দুই সপ্তাহে তিন শতাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি চর এলাকার শিশুদের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও চলে গেছে নদীগর্ভে। ভোরের পাখি এলাকাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।

ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অন্য জায়গায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙনে কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রামই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

ভোরের পাখি এলাকার সাইফুল মিয়া বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে এলাকার কোনো চিহ্ন নেই। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না হলে মানচিত্র থেকে ভোরের পাখি এলাকার আশপাশও বিলীন হয়ে যাবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, ‘চরে কখন কোন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, জানার উপায় নেই। ফলে স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণও সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেন বিঘ্ন না ঘটে, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এ বিষয়ে নির্দেশনা হয়েছে।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। যেসব এলাকা নতুন করে ভাঙছে, সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হবে।’

বরিশালের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। আজ শনিবার হাসপাতালের জীর্ণশীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবন দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সেখানকার চিকিৎসাসেবা অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থেকে রংপুরে কাজের উদ্দেশে বের হন মতিউর রহমান (২৬)। পরে আজ বিকেলে রংপুরের কাউনিয়ায় একটি বেইলি ব্রিজের নিচে পানিতে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। হাসপাতালে নেওয়ার পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।

জনপ্রিয় টার্গেট

২ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ

গাইবান্ধায় তিস্তা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের তাণ্ডবে বিলীন ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিতে আরও ৬টি

প্রকাশ: ১১:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন না থাকায় খোলা আকাশের নিচে চলছে আটটি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। কোথাও আবার একটি ছাপড়ার নিচে দুই-চারজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমেছে। ফলে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টেবিল ও শিক্ষার্থীদের কোলাহল। এখন সেখানে শুধু পানি আর পানি। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় উপস্থিতির হারও কমেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি কিছুটা বেশি। ভোরের পাখিসহ আশপাশের এলাকায় দিনের পর দিন তীব্র ভাঙনে নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি আর মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। মাদ্রাসা-মসজিদও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়ি, কেউ সড়কের পাশে। আবার কেউ নদীর কূলেই অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর কয়েক দফা ভাঙনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বসতভিটাসহ অসংখ্য আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার উত্তর খাটিয়ামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈশা মনি বলে, ‘গত বছরও আমরা বিদ্যালয়ে সুন্দরভাবে পড়াশোনা করেছি। তখন পড়াশোনায় আমাদের ভালো মনোযোগ ছিল। কিন্তু এ বছর হঠাৎ নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখন আমাদের পড়াশোনা করতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে।’

আরেক শিক্ষার্থী নয়ন মিয়া বলে, ‘স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনায় আর মনোযোগ দিতে পারছি না। চোখের সামনে এভাবে সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেলে আমরা যাব কোথায়?’

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের একটি জনপদের নাম ভোরের পাখি। একসময় চর এলাকার এই জনপদে শত শত পরিবার বাস করত। এ বছর কয়েক দফা ভাঙনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই জনপদ। তিস্তার ভাঙনে এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দশটিরও বেশি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। হারিয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি। সর্বস্ব হারিয়ে নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভাঙনকবলিত এসব মানুষ।

গেল দুই সপ্তাহে তিন শতাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি চর এলাকার শিশুদের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও চলে গেছে নদীগর্ভে। ভোরের পাখি এলাকাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।

ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অন্য জায়গায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙনে কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রামই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

ভোরের পাখি এলাকার সাইফুল মিয়া বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে এলাকার কোনো চিহ্ন নেই। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না হলে মানচিত্র থেকে ভোরের পাখি এলাকার আশপাশও বিলীন হয়ে যাবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, ‘চরে কখন কোন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, জানার উপায় নেই। ফলে স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণও সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেন বিঘ্ন না ঘটে, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এ বিষয়ে নির্দেশনা হয়েছে।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। যেসব এলাকা নতুন করে ভাঙছে, সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হবে।’

বরিশালের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। আজ শনিবার হাসপাতালের জীর্ণশীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবন দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সেখানকার চিকিৎসাসেবা অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থেকে রংপুরে কাজের উদ্দেশে বের হন মতিউর রহমান (২৬)। পরে আজ বিকেলে রংপুরের কাউনিয়ায় একটি বেইলি ব্রিজের নিচে পানিতে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। হাসপাতালে নেওয়ার পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।