প্রায় সারা বছর তেঁতুলিয়ায় পর্যটক থাকলেও অক্টোবর থেকে পুরো শীতকাল তাদের সংখ্যা বেড়ে যায়। এ সময় আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ পর্যটক আসে তেঁতুলিয়ায়। ফলে দিন দিন জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে হোমস্টে। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এবং আশপাশের বাড়ির অব্যবহৃত রুম এখন পর্যটকদের জন্য হোমস্টে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য অবলোকন, সমতল ভূমির চোখজুড়ানো সবুজ চা-বাগানের সৌন্দর্য এবং বিশেষত শীত উপভোগ করতে তেঁতুলিয়ায় আসেন পর্যটকেরা। কথা হয় গাজীপুরের দর্শনার্থী শাকিল হোসেনের সঙ্গে। তিনি কোনো আবাসিক হোটেল বা রিসোর্টে সিট না পেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে একটি হোমস্টেতে রাতযাপন করেন। বেশ নিরিবিলি পরিবেশে তাঁদের টিমের আটজন দুটি রুম নিয়ে ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁদের কাছে বেশ রোমাঞ্চকর ছিল বলে জানিয়েছেন শাকিল।
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোর পাশের বাড়ির স্কুলশিক্ষক আসাদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ির দুটি রুম অব্যবহৃত থাকে। পর্যটন মৌসুমে তা পর্যটকদের ভাড়া দিই। এটি আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা। পর্যটকেরা খুশি। আমাদের এলাকার অনেকে এখন তাঁদের অব্যবহৃত রুম পর্যটকদের ভাড়া দিচ্ছেন।’
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল চা। চা চাষ, কৃষক, শ্রমিক, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে। পঞ্চগড়ের হোয়াইট টি, গ্রিন টিসহ নানা ধরনের চায়ের সুনাম দেশ পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে। সবুজ গালিচায় বিছানো সমতলের চা-বাগান এখন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য।
স্থানীয় মানুষের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলেও হোমস্টে পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ নেই। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পর্যটকদের সেবার মান, বাড়ির মালিক ও পর্যটকদের নিরাপত্তা—বলছেন বিশ্লেষকেরা। এখন হোমস্টের মালিকদের কেউ জনপ্রতি আবার কেউ রুম হিসেবে ভাড়া নিচ্ছেন। ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, গাইডলাইন, প্রণোদনা, ঋণ এবং অ্যাপস সার্ভিস চালু করা গেলে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকেরা উপকৃত হবেন।
কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হোমস্টে ডেটাবেইসের কাজ চলছে। হোমস্টে সেবাদাতাদের আবাসন, খাদ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আমরা পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছি।’
সরকারের সঠিক পরিকল্পনা, যুবক ও নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। শুধু হোমস্টে নয়, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ইকো ট্যুরিজম, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং নারী ও যুবকদের এই খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দৈনিক টার্গেট 



























