নান্না শুধু একটি ভাসমান দোকান নয়, এটি সম্পূর্ণ মুক্ত পাঠাগার। এখানে রাখা আছে ৫ হাজারের বেশি বইয়ের বিশাল সংগ্রহ। এই লাইব্রেরির চমকপ্রদ নিয়মটি হলো শেলফ-সার্ভিস। অর্থাৎ এখানে ফিরিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। পাঠকেরা যেকোনো বই পছন্দ করে পড়তে পারেন এবং চাইলে সে বই সঙ্গে করে বাড়িতেও নিয়ে যেতে পারবেন। এ ছাড়া পাঠকেরা চাইলে তাঁদের নিজেদের পড়া বইও এখানে অন্যদের জন্য রেখে যেতে পারেন। ক্ল্যাসিক ফরাসি সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্য, কবিতা ও নাটকের পাশাপাশি এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নারী লেখকদের বইয়ের ওপর। বোটের উন্মুক্ত আলোকিত ডেকে ক্যাথেড্রালের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিচের কেবিনের বুক ক্লাবে বসে নিরিবিলিতে সাহিত্যচর্চা করা যায়।
নান্না শুধু বই বিক্রির জায়গা বা নিরিবিলি পাঠাগার নয়। এটি মূলত পাঠকদের জন্য এক সাংস্কৃতিক মিলনায়তন। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে এখানে প্রায় ২০টি সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেগুলোর মধ্যে থাকবে নতুন বইয়ের উন্মোচন, লেখক সাক্ষাৎকার, বুক সাইনিং, রাইটিং ওয়ার্কশপ, বুক ক্লাব মিটিং, লাইভ পডকাস্ট রেকর্ড এবং ট্রেন্ডি বুকটক জটলা। দিনের বেলার সাহিত্যিক আড্ডা সন্ধ্যার আলো ফুটতেই নতুন রূপ নেবে। সূর্যাস্তের পর গান, পানীয় এবং আড্ডার আমেজে লেখক ও পাঠকেরা উদ্যাপন করবেন জীবনের জয়গান।
ল্যাটিন কোয়ার্টার ও ঐতিহাসিক বুকেনিস্ট নদীপারের ঐতিহ্যবাহী পুরোনো বইয়ের দোকান। এই লাইব্রেরি ঐতিহাসিক সাহিত্যিক আমেজকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আধুনিক ও সহজলভ্য করে তোলাই আর্টফ্লাক্সের মূল লক্ষ্য। ইতিহাস, সাহিত্য আর সেন নদীর শান্ত স্নিগ্ধতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এই নান্নাতে। নটর-ডেমকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে, নদীর ওপর ভেসে বইয়ের পাতায় ডুব দেওয়ার এমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে প্যারিস ভ্রমণের এক নতুন আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।

দৈনিক টার্গেট 


























