নিলামে উঠছে প্রিন্সেস ডায়ানার ‘প্রতিশোধের পোশাক’

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

১৯৯৪ সালের ওই রাতে ডায়ানা যখন পোশাকটি পরে অনুষ্ঠানে হাজির হন, তার কয়েক ঘণ্টা আগে তৎকালীন প্রিন্স চার্লস একটি টেলিভিশন তথ্যচিত্রে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে পরকীয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। তখন চার্লস ও ডায়ানা কার্যত আলাদা থাকছিলেন। ফলে ডায়ানার আকস্মিক ও নাটকীয় উপস্থিতিকে অনেকেই তাঁর স্বামীর স্বীকারোক্তির জবাব হিসেবে দেখেছিলেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, অফ-দ্য-শোল্ডার নকশার কালো পোশাকটির নকশা করেছিলেন গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ান। এতে ছিল অসমান হেমলাইন ও শিফনের লম্বা ট্রেন। ডায়ানা এর সঙ্গে পরেছিলেন রাজকীয় হার, কালো ক্লাচ ও কালো হিল। তাঁর স্টাইলিস্ট আনা হার্ভে পরে জানিয়েছিলেন, ওই রাতে ডায়ানা নিজেকে ‘মিলিয়ন ডলারের মতো’ দেখতে চেয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঠিক আগে ডায়ানা পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। আগে বেছে রাখা ভ্যালেন্তিনোর তুলনামূলক সাদামাটা গাউন বাদ দিয়ে তিনি স্ট্যাম্বোলিয়ানের এই সাহসী পোশাকটি পরেন। সেই রাতের ডায়ানার ছবি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং পোশাকটি পরিণত হয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক প্রতীকে।

১৯৯৭ সালে মৃত্যুর কয়েক মাস আগে ডায়ানা নিজেই পোশাকটি নিলামে তুলেছিলেন। ক্যানসার ও এইডস-সংক্রান্ত দাতব্য কর্মকাণ্ডে অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি নিজের ৭৯টি পোশাক বিক্রি করেছিলেন। ওই নিলামে গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর স্বামী গ্রায়েম ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ডে পোশাকটি কিনেছিলেন। ম্যাকেঞ্জি জানান, পোশাকটি পরার জন্য তাঁরা কেনেননি; বরং এর অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়াই ছিল তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বামীর মৃত্যুর পর ম্যাকেঞ্জি এবার পোশাকটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ডায়ানা সেদিন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ তাকে দেখে তা বোঝার উপায় ছিল না। ছবি তোলার মুহূর্তেই একটি সাধারণ ককটেল ড্রেস যেন শক্তিশালী এক বক্তব্যে পরিণত হয়েছিল।

নিলামের আগে পোশাকটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হবে। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে সোথেবি’স-এর শোরুমে প্রদর্শনের পর এটি যাবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। নিউইয়র্কেই হবে চূড়ান্ত নিলাম।

পোশাকটির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের নিলামের বিরল একটি ক্যাটালগও বিক্রি হবে, যেখানে ডায়ানা ও স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর রয়েছে। বিক্রির অর্থের একটি অংশ দেওয়া হবে রয়্যাল এডিনবার্গ হাসপাতালে।

ডায়ানার পোশাক যে কতটা মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে, তার আরেকটি উদাহরণ ২০২৩ সালের নিলাম। সেই বছর সাদা ভেড়ার সারির মধ্যে একটি কালো ভেড়ার নকশা করা ডায়ানার একটি সোয়েটার সোথেবি’স-এর নিউইয়র্ক নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৯ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে।

ব্রিকস সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে বৈঠকের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রাচীন তামিল গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির এই উপহার ঘিরে আলোচনায় এসেছে তামিল সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত এই গ্রন্থ, যার রচয়িতা হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে কবি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৮ তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে এসেছে বিশাল নিরাপত্তা বহর। এই বহরের মধ্যে রয়েছে তাঁর নিজস্ব কৌশলে সাজানো প্রেসিডেনশিয়াল, যা প্রায়ই ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত। রয়েছে তাঁর সাঁজোয়া অরুস সেনাট লিমুজিনও।

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

নিলামে উঠছে প্রিন্সেস ডায়ানার ‘প্রতিশোধের পোশাক’

প্রকাশ: ০৭:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৯৪ সালের ওই রাতে ডায়ানা যখন পোশাকটি পরে অনুষ্ঠানে হাজির হন, তার কয়েক ঘণ্টা আগে তৎকালীন প্রিন্স চার্লস একটি টেলিভিশন তথ্যচিত্রে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে পরকীয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। তখন চার্লস ও ডায়ানা কার্যত আলাদা থাকছিলেন। ফলে ডায়ানার আকস্মিক ও নাটকীয় উপস্থিতিকে অনেকেই তাঁর স্বামীর স্বীকারোক্তির জবাব হিসেবে দেখেছিলেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, অফ-দ্য-শোল্ডার নকশার কালো পোশাকটির নকশা করেছিলেন গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ান। এতে ছিল অসমান হেমলাইন ও শিফনের লম্বা ট্রেন। ডায়ানা এর সঙ্গে পরেছিলেন রাজকীয় হার, কালো ক্লাচ ও কালো হিল। তাঁর স্টাইলিস্ট আনা হার্ভে পরে জানিয়েছিলেন, ওই রাতে ডায়ানা নিজেকে ‘মিলিয়ন ডলারের মতো’ দেখতে চেয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঠিক আগে ডায়ানা পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। আগে বেছে রাখা ভ্যালেন্তিনোর তুলনামূলক সাদামাটা গাউন বাদ দিয়ে তিনি স্ট্যাম্বোলিয়ানের এই সাহসী পোশাকটি পরেন। সেই রাতের ডায়ানার ছবি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং পোশাকটি পরিণত হয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক প্রতীকে।

১৯৯৭ সালে মৃত্যুর কয়েক মাস আগে ডায়ানা নিজেই পোশাকটি নিলামে তুলেছিলেন। ক্যানসার ও এইডস-সংক্রান্ত দাতব্য কর্মকাণ্ডে অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি নিজের ৭৯টি পোশাক বিক্রি করেছিলেন। ওই নিলামে গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর স্বামী গ্রায়েম ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ডে পোশাকটি কিনেছিলেন। ম্যাকেঞ্জি জানান, পোশাকটি পরার জন্য তাঁরা কেনেননি; বরং এর অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়াই ছিল তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বামীর মৃত্যুর পর ম্যাকেঞ্জি এবার পোশাকটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ডায়ানা সেদিন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ তাকে দেখে তা বোঝার উপায় ছিল না। ছবি তোলার মুহূর্তেই একটি সাধারণ ককটেল ড্রেস যেন শক্তিশালী এক বক্তব্যে পরিণত হয়েছিল।

নিলামের আগে পোশাকটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হবে। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে সোথেবি’স-এর শোরুমে প্রদর্শনের পর এটি যাবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। নিউইয়র্কেই হবে চূড়ান্ত নিলাম।

পোশাকটির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের নিলামের বিরল একটি ক্যাটালগও বিক্রি হবে, যেখানে ডায়ানা ও স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর রয়েছে। বিক্রির অর্থের একটি অংশ দেওয়া হবে রয়্যাল এডিনবার্গ হাসপাতালে।

ডায়ানার পোশাক যে কতটা মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে, তার আরেকটি উদাহরণ ২০২৩ সালের নিলাম। সেই বছর সাদা ভেড়ার সারির মধ্যে একটি কালো ভেড়ার নকশা করা ডায়ানার একটি সোয়েটার সোথেবি’স-এর নিউইয়র্ক নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৯ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে।

ব্রিকস সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে বৈঠকের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রাচীন তামিল গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির এই উপহার ঘিরে আলোচনায় এসেছে তামিল সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত এই গ্রন্থ, যার রচয়িতা হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে কবি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৮ তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে এসেছে বিশাল নিরাপত্তা বহর। এই বহরের মধ্যে রয়েছে তাঁর নিজস্ব কৌশলে সাজানো প্রেসিডেনশিয়াল, যা প্রায়ই ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত। রয়েছে তাঁর সাঁজোয়া অরুস সেনাট লিমুজিনও।

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।