এআই নিয়ন্ত্রণে এবার জাতিসংঘের আহ্বান

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৯৩ বার পঠিত হয়েছে

দেশ ও এআই উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়বে। তাঁর মতে, আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা মানবজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

তুর্ক রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে উন্নত ও ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই মডেল নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এআই-এর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষকের সতর্কবার্তার পর। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তির বর্তমান গতিপ্রকৃতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে উন্নত এআই প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

চীন অবশ্য এআই নিয়ে ‘হুমকির বয়ান’ তৈরির সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হুমকি, সংঘাত ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিযোগিতার ধারণা বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে। বরং এআইকে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকল্যাণমুখী করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন শুধু ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান’ প্রেসিডেন্ট। এআইবিরোধী অতিরিক্ত উদ্বেগকে তিনি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের সন্দেহের সুযোগ নিয়ে চীন লাভবান হতে পারে।

এদিকে অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন একাধিক শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, যার মধ্যে রয়েছেন ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান।

চীনের নীতিনির্ধারকেরাও অবশ্য উন্নত এআই-এর ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। দেশটির কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর ওপর উন্নত এআই মডেলের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংও বলেছেন, এআই-এর অন্তর্নিহিত ও পরোক্ষ ঝুঁকির বিষয়ে গভীর নজর দিতে হবে এবং প্রযুক্তিকে ‘সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে হবে।

এআই-এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে ওজোন স্তর সুরক্ষায় ঐতিহাসিক মন্ট্রিয়ল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজোন স্তর মূলত একটি প্রাকৃতিক ছাতা। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে মানুষ ও পরিবেশ রক্ষা করে।

জনপ্রিয় টার্গেট

‎ঢাকার পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী: এমপি শিমুল বিশ্বাস ‎

এআই নিয়ন্ত্রণে এবার জাতিসংঘের আহ্বান

প্রকাশ: ১২:০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশ ও এআই উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়বে। তাঁর মতে, আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা মানবজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

তুর্ক রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে উন্নত ও ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই মডেল নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এআই-এর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষকের সতর্কবার্তার পর। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তির বর্তমান গতিপ্রকৃতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে উন্নত এআই প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

চীন অবশ্য এআই নিয়ে ‘হুমকির বয়ান’ তৈরির সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হুমকি, সংঘাত ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিযোগিতার ধারণা বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে। বরং এআইকে উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকল্যাণমুখী করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন শুধু ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান’ প্রেসিডেন্ট। এআইবিরোধী অতিরিক্ত উদ্বেগকে তিনি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের সন্দেহের সুযোগ নিয়ে চীন লাভবান হতে পারে।

এদিকে অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন একাধিক শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, যার মধ্যে রয়েছেন ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান।

চীনের নীতিনির্ধারকেরাও অবশ্য উন্নত এআই-এর ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। দেশটির কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর ওপর উন্নত এআই মডেলের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংও বলেছেন, এআই-এর অন্তর্নিহিত ও পরোক্ষ ঝুঁকির বিষয়ে গভীর নজর দিতে হবে এবং প্রযুক্তিকে ‘সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে হবে।

এআই-এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে ওজোন স্তর সুরক্ষায় ঐতিহাসিক মন্ট্রিয়ল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজোন স্তর মূলত একটি প্রাকৃতিক ছাতা। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে মানুষ ও পরিবেশ রক্ষা করে।