যেকোনো দলের সঙ্গেই চোখে চোখ রেখে লড়তে পারব
-
দৈনিক টার্গেট - প্রকাশ: ১০:০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ৩ বার পঠিত হয়েছে
প্রশ্ন: ম্যাকাই টেস্টে আপনার ৭ উইকেট। কেমন অনুভূতি কাজ করেছিল তখন?
শরীফুল ইসলাম: আলহামদুলিল্লাহ। খুব ভালো। প্রথম ম্যাচ (ডারউইনে) যদি খেলতাম, তাহলে আরও বেশি ভালো লাগত। আমার চোট ছিল। রিহ্যাবের প্রক্রিয়া শেষ করে, ফিটনেস টেস্টে পাস করে তারপরে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছি। যাওয়ার পরে ম্যাচ না খেললেও দলের সঙ্গে ফটোসেশনে ছিলাম, দুই দিন দলের সঙ্গে কাজ করছি, সতীর্থদের পানি দিয়েছি। এসবের অনুভূতি দারুণ ছিল। আমরা ওই ম্যাচটা জিতেছিলাম।
প্রশ্ন: আপনার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও টেস্টটা জেতা আর হয়নি। তা কি আনন্দ-বেদনারই মিশ্রণ?
শরীফুল: আমার পারফরম্যান্স আলহামদুলিল্লাহ ভালো ছিল। কিন্তু যদি বলেন যে আনন্দ কাজ করছে কি না, তাহলে বলব, তেমন না। যদি ম্যাচটা জিততাম, তাহলে অনেক ভালো লাগত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এর আগে একটা ম্যাচে ৬ উইকেট পেয়েছিলাম; আমাদের দেশের মাটিতে শেষ ওয়ানডেতে। সেই ম্যাচটাও হেরে গেছি। দিন শেষে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কথা হয়তো মনে থাকবে। তবে দল জিতলে অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করত।
প্রশ্ন: ডারউইনে স্মরণীয় জয়ের পর ম্যাকাইতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে হার। টস কি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে?
শরীফুল: আমার মনে হচ্ছিল, টসটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই ম্যাচের জন্য। আপনারা দেখতেই পাচ্ছিলেন, নিজেদের কন্ডিশন হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও অনেক কঠিন সময় পার করেছে। অথচ ওরা কিন্তু আমাদের পরে ব্যাটিং করেছে। ওরা যদি প্রথমে ব্যাটিং করত, কে জানে, যেকোনো কিছুই হয়ে যেতে পারত। বলছি না যে আমরা জিতে যেতাম। তবে একটা ভালো লড়াই হতো। যদিও মনে হয়েছে, আমাদের ব্যাটাররা খেলতে পারেনি। ওরা অনেক রান করছে, তেমন কিছু হলে না হয় ভাবতাম—না, আমরা পারিনি। কিন্তু দেখেন, আমরাও যেমন ব্যাটিং করেছি, বিশ্বমানের সব ব্যাটার; আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকার পরও তারাও কিন্তু বাজে সময় পার করেছে।
প্রশ্ন: ৭ উইকেট নেওয়ার পথে বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছেন। সামনে কতটা অনুপ্রাণিত করবে?
শরীফুল: হ্যাঁ, কিছু রেকর্ড হয়েছে, অনেকে বিষয়টা বলেছে। কিন্তু ওই যে বললাম, আরও ভালো হতো যদি ম্যাচটা জিততাম। সেসব রেকর্ড আরও স্মরণীয় হয়ে থাকত। তখন মনে করতাম, আমি এ রকম পারফর্ম করে একটা ম্যাচ জিতিয়েছিলাম। এই আরকি। তবে হ্যাঁ, এমন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনেক অনুপ্রেরণা, অনেক আত্মবিশ্বাস জোগায়।
প্রশ্ন: ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির তুলনায় টেস্টে সেভাবে নজর কাড়তে পারছিলেন না। ম্যাকাই টেস্টের পারফরম্যান্স কি আপনার টেস্ট ক্যারিয়ারের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকল?
শরীফুল: যে সংস্করণে খেলি, সেখানেই নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি হয়তো ব্যর্থ হতে পারি, টানা এক বছর কিংবা তার বেশি সময় খারাপ হতে পারে। তবে কখনো হাল ছাড়ি না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টের আগেও টেস্ট নিয়ে ভাবছিলাম। মনে হচ্ছিল, টেস্টে একটু পিছিয়ে যাচ্ছি, গড় বা উইকেটের দিক থেকে তেমন ভালো করতে পারছিলাম না। দলের জন্য কার্যকরী ভূমিকাও রাখতে পারছিলাম না। এটা নিয়ে কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। কীভাবে টেস্টে ভালো বোলিং করা যায়, এ নিয়ে কাজ করেছিলাম। তো অবশেষে সাফল্য পেলাম।
প্রশ্ন: মিচেল স্টার্কের সঙ্গে কী কথা হয়েছে?
শরীফুল: সে অনেক ভালো মানুষ, তার সঙ্গে কথা বললাম, ভালো লেগেছে। তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কীভাবে নিজের কাজটা ভালোভাবে করা যায়। কীভাবে ম্যাচের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা যায়, এগুলো জানতে চেয়েছিলাম। সে সুন্দরভাবে আমার সঙ্গে কথা বলেছে, উত্তর দিয়েছে। বিষয়টা খুব ভালো লেগেছে। সে বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা বাঁহাতি পেসার। এমন একজনের কাছ থেকে শেখা বা নিজের দায়িত্ব সম্পর্ক জানা, ম্যাচের আগে বা পরে কী করা দরকার, অবসর সময়ে কী করতে হবে—এসব নিয়ে কথা হয়েছে।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশের বড় একটা চ্যালেঞ্জ দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজে ভালো করতে কতটা আশাবাদী?
শরীফুল: ক্রিকেটার হিসেবে আমি দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, যেকোনো দলের বিপক্ষেই ভালো করতে উন্মুখ থাকি। প্রথমত, ফিট থাকা। ভালো-খারাপ তো পরের বিষয়। ফিট থাকলে হয়তো নিজের দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে পারব। আপাতত এটা নিয়েই ভাবছি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না। সেই সফরের আগে আমরা এশিয়ান গেমস খেলব। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ (আরব আমিরাতে) আছে। আপাতত এশিয়ান গেমস নিয়ে ভাবছি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ অনেক দূরে। যখন সেই সিরিজের অনুশীলন শুরু হবে, তখন সেটা নিয়ে ভাবব।
প্রশ্ন: বর্তমান বাংলাদেশ টেস্ট দলটা অনেক ভালো করছে। সামনে এটা ধরে রাখতে কোথায় বেশি কাজ করতে হবে?
শরীফুল: এটা অনেক ভালো লাগা কাজ করে, আত্মবিশ্বাসী করে। আমাদের বিশ্বাস আছে, যেকোনো দলের বিপক্ষে ভালো লড়াই করতে পারব। দলের ভেতর বন্ধনটা দারুণ। একটা সুন্দর পরিবেশ বলতে যা বোঝায় আরকি। সবার ভেতর আত্মবিশ্বাস আছে। সবাই সবার প্রতি এই বিশ্বাস রাখে যে একজন আরেকজনকে সাপোর্ট করবে। সব মিলিয়ে বলতে পারি, হ্যাঁ, আমরা সামনেও ইনশা আল্লাহ ভালো করব।
প্রশ্ন: অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
শরীফুল: আমি যখন রাজশাহী ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ছিলাম, তখন থেকে শান্ত ভাইকে চিনি। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো; ছোট ভাই হিসেবে দেখেন। শুধু আমাকে না, পুরো দলের ক্রিকেটারদের আগলে রাখেন। তিনি অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখেন। এটা খুবই ভালো বিষয়। কারণ, একজন ক্রিকেটারকে মাঠে কী করতে হবে, সেটা যদি অধিনায়ক আগে থেকেই বলে দেন, তাহলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। তখন সেই ক্রিকেটার পরিকল্পনার ওপর মনোযোগ দিতে পারে।
শরীফুল: আল্লাহ যদি চায়, তাহলে অবশ্যই খেলব (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে)। স্বপ্ন তো সবাই দেখে। আমরাও স্বপ্ন দেখছি। এখন আমাদের আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। যে রকম খেলছি, তার চেয়ে আরও একটু বেশি চেষ্টা করতে হবে। এখন ফাইনাল তো অনেক দূরে। সামনে যে ম্যাচগুলো আছে, সেগুলোর ফল আমাদের পক্ষে আনতে হবে। তারপর ওই ভাবনা।
প্রশ্ন: দীর্ঘ ২৩ বছর পর বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় খেলল, একটা ম্যাচও জিতল। এমন পারফরম্যান্সের পর কি আপনারা এখন থেকে নিয়মিত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে আশাবাদী?
শরীফুল: আমরা তো অবশ্যই আশাবাদী। শুধু টেস্ট নয়, অস্ট্রেলিয়া চাইলে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে সিরিজও খেলতে চাই। টেস্ট তো অবশ্যই খেলতে চাই। এটা আমাদের জন্য ভালো হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওদের কন্ডিশনে লড়াই করব। আশা করি তারা আমাদের সঙ্গে খেলবে।
প্রশ্ন: টেস্টে একটা সময় স্পিনারদের দাপট ছিল। এখন পেসাররা ভালো করছে। এটার পেছনে রহস্য কী?
শরীফুল: এখন যে উইকেট বানানো হয়, সেটা একদম ফ্ল্যাট। একটু খেয়াল করলে দেখবেন, এসব উইকেটে পেস বোলারদের সহায়তা থাকে। যেটা আমাদের ভালো করতে সহায়তা করছে। তবে স্পিনাররাও ভালো করছে। স্পিনাররা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে, তারা এখনো অবদান রেখে যাচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের ওই উইকেটটা কিন্তু পেস সহায়ক ছিল। সেই ম্যাচেও তাইজুল ভাই ৭ উইকেট নিয়েছেন। স্পিনারদের কথাও বলতে হবে। অস্ট্রেলিয়ায় বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজ ভাই ৫ উইকেট নিয়েছেন। শুধু যে পেসাররা ভালো করছে, এমনটাও নয়। আমাদের পুরো বোলিং ইউনিটটাই মাশাআল্লাহ খুব ভালো করছে।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে তাইজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে না পারার কোনো কারণ নেই। সত্যি জিতল বাংলাদেশ। কেমন লাগে?
শরীফুল: এসব অনেক ভালো লাগে। যখন আপনি একটা বড় দলকে হারাবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে। মনে হবে, আমরা এখন যেকোনো দলের সঙ্গে ভালো লড়াই করতে পারব। জয়-পরাজয় তো পরের বিষয়। এটা মনে হবে যে এখন চোখে চোখ রেখে লড়তে পারব।
লিওনেল মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মনে করেন জিনেদিন জিদান। শুধু তা-ই নয়, ৩৯ বছর বয়সেও এই ফরোয়ার্ড যেভাবে পারফর্ম করে চলেছেন, সেটিকে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয় রিয়াল মাদ্রিদের এই কিংবদন্তির কাছে।
শেষ দিকে মোহাম্মদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। কিন্তু তাঁদের এই জুঁটি খুব বেশি ভুগাতে পারেনি ইংল্যান্ডকে। আব্বাস জফরা আর্চারের বলে হ্যারি ব্রুকের হাতে ধরা পড়তেই শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস।
ওয়ানডে অভিষেকেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন দক্ষিণ আফ্রিকার জর্ডান হারমান। নামিবিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১২৬ বলে ১৫০ রানের ইনিংস খেলে ওয়ানডে অভিষেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্ব রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।























