মঙ্গলবার এ পোস্টটি করেন সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। পাঠকের সুবিধার্থে পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘মজুত ছিল, তবু সংকট কেন? দাম বাড়তেই সংকট উধাও, সংসদীয় কমিটিতে মিলল না সদুত্তর’
‘আজ সরকারি প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল। বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনস্থ ৮টি কোম্পানির কার্যক্রম পর্যালোচনার কথা ছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল, সম্প্রতি সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা এবং এর সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আলোচনা খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি। কারণ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তই ছিল না। কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের তাঁরা সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি আমাদের প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪ ধারায় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) দেওয়া হলেও গত ১৪ বছরেও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রবিধান প্রণয়ন করা হয়নি কেন? কোনো সদুত্তর নেই।’
পোস্টে আরও এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘প্রশ্ন করা হলো, আমাদের জ্বালানি তেলের মজুত ৩০ দিনের কম কেন? কোনো সদুত্তর নেই। প্রশ্ন করা হলো, দেশে জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা কতটুকু? একেকবার একেক ধরনের উত্তর দেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত বোঝা গেল, কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রেই অনুমাননির্ভর তথ্য দিচ্ছেন। অথচ তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে দুই মাসেরও বেশি সময়ের জ্বালানি তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে, অথচ ১ মাসেরও জ্বালানী তেল মজুদ নেই। গত ১০ বছর ধরে বিপিসি লাভে আছে, তারপরও কেন ৩০ দিনের প্রয়োজনীয় মজুদ নেই তার কোন সদুত্তর নেই।’
নাজিবুর রহমান লেখেন, ‘কমিটির চেয়ারম্যান জানতে চাইলেন, কয়েক মাস আগে যখন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল, তখন আমাদের তেলের মজুতের কোনো ঘাটতি ছিল কি না। কর্মকর্তারা বললেন, না তাহলে প্রশ্ন হলো, সংকট হলো কেন? এরও কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া গেল না। বরং বোঝানোর চেষ্টা করা হলো, জ্বালানি সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করেছিল, যার ফলে সংকট সৃষ্টি হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা প্রশ্ন করা হলো, তাহলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর রাতারাতি সেই সংকট কীভাবে উধাও হয়ে গেল? কোনো সদুত্তর নেই। কমিটির চেয়ারম্যান তখন মন্তব্য করেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও আপনারা পর্যাপ্ত সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন বলে মনে হচ্ছে। এরও কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া গেল না। বরং অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হলো, দাম বাড়ানোর পর জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে, ফলে মানুষ আর অতিরিক্ত তেল মজুত করেনি এবং সংকট কেটে গেছে আমি বললাম, আপনাদের এই ব্যাখ্যা অত্যন্ত হাস্যকর। কারণ আপনাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাম বাড়ানোর আগে মোটরসাইকেল চালকরা অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছিলেন। দাম বাড়ার পর হঠাৎ সেই প্রবণতা বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু কেন বন্ধ হল? তার কোনো বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা আপনারা দিতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত কমিটির চেয়ারম্যান কর্মকর্তাদের বলতে বাধ্য হন, পরবর্তী বৈঠকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে এবং কমিটি যে তথ্য চাইবে, তা বৈঠকের অন্তত এক দিন আগে সরবরাহ করতে হবে।’
জামায়াতের এ সংসদ সদস্য লিখেছেন, ‘কয়েকদিন আগে মাননীয় স্পিকার বলেছিলেন, এই প্রশাসনের ‘টপ টু বটম চোর’। আমার কাছে মনে হয়, বিষয়টি শুধু দুর্নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রশাসনের একটি অংশ এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করছে এবং বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সরকারি দলের অনেকেই যদি নিজেরাই দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত থাকেন, তাহলে এই অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন কীভাবে?’
পোস্টের শেষাংশে নাজির রহমান লিখেছেন, ‘একদিকে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হলো, অন্যদিকে দাম বাড়ানোর পর রাতারাতি সেই সংকট দূর হয়ে গেল। অথচ সংকটের প্রকৃত কারণ কী ছিল, কার দায় ছিল, কেন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি, এসব প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই, নেই কার্যকর জবাবদিহিতাও। এভাবে একটি রাষ্ট্র চলতে পারে না। যেখানে সংকটের কারণ জানা যায় না, সিদ্ধান্তের ভিত্তি পরিষ্কার নয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সংসদীয় কমিটির কাছেও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারে না, সেখানে জনগণের আস্থা কীভাবে তৈরি হবে?’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমাদের জাতিগত মুক্তি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে।’ সামনে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নম্বর সেক্টরের বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ…
দৈনিক টার্গেট 

























