২৮ বিচারক শোকজ, ‘ভয়ের বার্তা’ বললেন হাসনাত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪১ বার পঠিত হয়েছে

হাসনাত আবদুল্লাহ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশকে কেন্দ্র করে অধস্তন আদালতের ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এ নোটিশে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিচারকদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিসরে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকা স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু সেই জায়গাটিও যদি নজরদারির আওতায় চলে আসে, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তার মতে, ব্যক্তিগত বা সীমিত পরিসরের আলোচনার স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা একটি ‘ভীতিকর বার্তা’ দেয়। এতে বিচারকদের মধ্যে আত্মসংযমের পরিবর্তে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিচার ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে বিচারকরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই পরিবেশকে আবার সংকুচিত করে ফেলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের ওপর যদি কোনো ধরনের চাপ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের প্রতি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভয় নয়, বরং স্বাধীনতা ও আস্থার পরিবেশ জরুরি।

ঘটনাটি ঘিরে আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এমন বিষয়গুলো সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

২৮ বিচারক শোকজ, ‘ভয়ের বার্তা’ বললেন হাসনাত

প্রকাশ: ১১:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশকে কেন্দ্র করে অধস্তন আদালতের ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এ নোটিশে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিচারকদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিসরে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকা স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু সেই জায়গাটিও যদি নজরদারির আওতায় চলে আসে, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তার মতে, ব্যক্তিগত বা সীমিত পরিসরের আলোচনার স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা একটি ‘ভীতিকর বার্তা’ দেয়। এতে বিচারকদের মধ্যে আত্মসংযমের পরিবর্তে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিচার ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে বিচারকরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই পরিবেশকে আবার সংকুচিত করে ফেলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের ওপর যদি কোনো ধরনের চাপ বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকে, তাহলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের প্রতি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভয় নয়, বরং স্বাধীনতা ও আস্থার পরিবেশ জরুরি।

ঘটনাটি ঘিরে আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এমন বিষয়গুলো সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।