হাওরে গোখাদ্যের তীব্র সংকট, বিপাকে কৃষক

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

হাওরাঞ্চলের মানুষের ভাষ্য, বোরো আবাদের সঙ্গে গবাদি পশুপালন এখানকার মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস। অনুকূল পরিবেশে ফলন ঘরে তুলতে পারলে বছরের খোরাক, খরচ ও গোখাদ্য তিনটিরই সংস্থান হয় তাঁদের। কিন্তু গত এপ্রিলে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওরের বোরো ফলন ডুবে যাওয়ায় এবার আর গোখাদ্য বাড়িতে তুলতে পারেননি কৃষকেরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে গবাদিপশু আছে ৬ লাখ ১০ হাজার ৯৯০টি। এর মধ্যে গরু ৫ লাখ ৪০ হাজার, মহিষ ২১ হাজার ১০০টি ও ছাগল আছে ৪৯ হাজার ৮৯০টি।

গত শনিবার সকালে নৌকাযোগে শনি হাওর ঘুরে দেখা যায়, থইথই পানিতে স্থির ভাসছে জলাবন হিসেবে পরিচিত আগাছাজাতীয় বড় বড় ঘাস-লতা। অনেক কৃষক এই জলাবন কেটে নৌকায় তুলছেন।

তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জসহ তিন উপজেলা নিয়ে শনি হাওরের বিস্তৃতি। প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের কৃষক এই হাওরে আসে জলাবন (এড়াইল) কাটতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাবন সংগ্রহকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে বলছেন জলাবন কাটতে আসা লোকজন।

টইটম্বুর হাওরের মাঝে নৌকায় করে জলাবন কাটছিলেন নূর ইসলাম, মুকুল রায় ও আলী নূরসহ কয়েকজন। এসব কৃষক বলেন, বছর গেছে খারাপ। খড় তুলতে পারিনি। হাওরের জলাবন গরুর জান বাঁচাইছে।

তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, খড়ের অভাবে মহিষগুলো চার মাস আগে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে বাড়িতে নিয়ে আসি।

জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকার বলেন, ‘কৃষকের কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে গোখাদ্য সহায়তার বিষয়টি ভাবা দরকার।’

তাহিরপুরের মহালিয়া হাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. সিরাজুল হক বলেন, ফলনমরা বছর হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ খড় ঘরে তুলতে পারেননি। গোখাদ্যের অভাবে অনেকেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান মিয়া বলেন, জেলায় প্রায় ছয় লাখের বেশি গবাদিপশু আছে। গোখাদ্যের সংকটের সময় সহায়তার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু গোখাদ্য কিনতে বরাদ্দ যা আসে, তা যৎসামান্য।

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে অবৈধ মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

গতকাল বেলা ১টার দিকে পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ির সামনে থেকে শিশুটিকে ডেকে নেয় ওই কিশোর। পরে স্থানীয় একটি ভবনের পেছনের ফাঁকা জায়গায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি কিছু সময় পর বাড়িতে গেলে গোসলের সময় তার মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। রিকশাওয়ালা পর্যন্ত আইন মানতে চায় না। অসহিষ্ণুতা এক দিনে হয়নি। আগে এমন ছিল না। যারা করছে, তাদের একটা উদ্দেশ্য আছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

হাওরে গোখাদ্যের তীব্র সংকট, বিপাকে কৃষক

প্রকাশ: ০১:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাওরাঞ্চলের মানুষের ভাষ্য, বোরো আবাদের সঙ্গে গবাদি পশুপালন এখানকার মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস। অনুকূল পরিবেশে ফলন ঘরে তুলতে পারলে বছরের খোরাক, খরচ ও গোখাদ্য তিনটিরই সংস্থান হয় তাঁদের। কিন্তু গত এপ্রিলে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাওরের বোরো ফলন ডুবে যাওয়ায় এবার আর গোখাদ্য বাড়িতে তুলতে পারেননি কৃষকেরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে গবাদিপশু আছে ৬ লাখ ১০ হাজার ৯৯০টি। এর মধ্যে গরু ৫ লাখ ৪০ হাজার, মহিষ ২১ হাজার ১০০টি ও ছাগল আছে ৪৯ হাজার ৮৯০টি।

গত শনিবার সকালে নৌকাযোগে শনি হাওর ঘুরে দেখা যায়, থইথই পানিতে স্থির ভাসছে জলাবন হিসেবে পরিচিত আগাছাজাতীয় বড় বড় ঘাস-লতা। অনেক কৃষক এই জলাবন কেটে নৌকায় তুলছেন।

তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জসহ তিন উপজেলা নিয়ে শনি হাওরের বিস্তৃতি। প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের কৃষক এই হাওরে আসে জলাবন (এড়াইল) কাটতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাবন সংগ্রহকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে বলছেন জলাবন কাটতে আসা লোকজন।

টইটম্বুর হাওরের মাঝে নৌকায় করে জলাবন কাটছিলেন নূর ইসলাম, মুকুল রায় ও আলী নূরসহ কয়েকজন। এসব কৃষক বলেন, বছর গেছে খারাপ। খড় তুলতে পারিনি। হাওরের জলাবন গরুর জান বাঁচাইছে।

তাহিরপুরের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, খড়ের অভাবে মহিষগুলো চার মাস আগে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে বাড়িতে নিয়ে আসি।

জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকার বলেন, ‘কৃষকের কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে গোখাদ্য সহায়তার বিষয়টি ভাবা দরকার।’

তাহিরপুরের মহালিয়া হাওর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. সিরাজুল হক বলেন, ফলনমরা বছর হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ খড় ঘরে তুলতে পারেননি। গোখাদ্যের অভাবে অনেকেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

সুনামগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান মিয়া বলেন, জেলায় প্রায় ছয় লাখের বেশি গবাদিপশু আছে। গোখাদ্যের সংকটের সময় সহায়তার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু গোখাদ্য কিনতে বরাদ্দ যা আসে, তা যৎসামান্য।

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে অবৈধ মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তৌহিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

গতকাল বেলা ১টার দিকে পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ির সামনে থেকে শিশুটিকে ডেকে নেয় ওই কিশোর। পরে স্থানীয় একটি ভবনের পেছনের ফাঁকা জায়গায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি কিছু সময় পর বাড়িতে গেলে গোসলের সময় তার মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে সে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। রিকশাওয়ালা পর্যন্ত আইন মানতে চায় না। অসহিষ্ণুতা এক দিনে হয়নি। আগে এমন ছিল না। যারা করছে, তাদের একটা উদ্দেশ্য আছে।